গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ (৫৩) সোমবার রাত ১২টায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি দীর্ঘ দিন দুরারোগ্য কোলন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। রাজধানীর তুরাগে আহসানিয়া ক্যান্সার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় টঙ্গীতে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। হাজার হাজার মুসুল্লি তার নামাজে জানাজায় শরিক হন। এর পর দ্বিতীয় জানাজা সকাল সাড়ে ৯টায় গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ ছায়াবীথি সোসাইটি স্কুল মাঠে, তৃতীয় জানাজা বেলা ১১টায় নিজের কর্মস্থল কালীগঞ্জের বড়গাঁও বায়তুল উলুম আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে।

তার ইন্তেকালে গাজীপুর জেলা ও মাহানগর জামায়াত ও বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে।

টঙ্গীতে জানাজাপূর্ব বক্তব্যে আমীরে জামায়াত বলেন, অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ আমৃত্যু ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন। তিনি অসুস্থ শরীর নিয়েও যেভাবে ইকামাতে দ্বীনের জন্য নিবেদিত ছিলেন তা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।

জানাজায় আরো শরিক হন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো: মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো: মোয়াজ্জেম হোসেন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. মাওলানা মো: ছামিউল হক ফারুকী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো: মোবারক হোসেন, অ্যাডভোকেট মো: মতিউর রহমান আখন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমীর মো: সেলিম উদ্দিন, সেক্রেটারি ড. মো: রেজাউল করিম, ঢাকা উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর মো: আফজাল হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো: হারুন অর রশিদ, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমীর ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক আমীর মো: আবুল হাশেম খান, টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদ, মানিকগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ মাওলানা মো: কামরুল ইসলাম, গাজীপুর মহাগর জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো: জামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি মো: খায়রুল হাসান, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মো: রাশেদুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো: হোসেন আলী, মো: আফজাল হোসাইন, শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ, থানা আমীরগণ, থানা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দসহ হাজার হাজার মানুষ।

অধ্যক্ষ সানাউল্লাহ ১৯৬৯ সালের ১৪ জুন গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শুরু থেকে মহানগর জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি গাজীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও কাপাসিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর ছিলেন।

এদিকে অধ্যক্ষ সানাউল্লাহর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। আমরা তার ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করছি। আল্লাহ তায়ালা তার জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে দাখিল করুন ও তার শোকাহত পরিবার-পরিজনদেরকে এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।

অধ্যক্ষ সানাউল্লাহ’র ইন্তেকালে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণের শোক

অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ’র ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

এক যৌথ শোকবার্তায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে শ্রমিক সংগঠনের কাজকে গতিশীল করতে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। সর্বদা মেহনতি শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির জন্য ইসলামী শ্রম আন্দোলনকে
ছড়িয়ে দিতে সদা তৎপর ছিলেন। তিনি গাজীপুরের শ্রমজীবী মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা ছিলেন। আল্লাহ রাব্বুল ইসলামী শ্রম আন্দোলনে তার অবদান কবুল করুন।

শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে মরহুমের নেক আমল সমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতবাসী ও আত্মীয়স্বজনকে ধৈর্য ধরার শক্তি দান করার জন্য দোয়া করেন।