মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া জমি ও ঘর পেয়ে আনন্দিত বরগুনার উপকূলের গৃহহীনরা।
যেমন দারিদ্র্যের চাবুকে জর্জরিত মল্লিকা-কেরামত দম্পতি। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে তার জমিজমা। দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে ১০ বছর বয়সে মারা যায় মেয়েটি। শারীরিক জটিলতায় অনেকটাই চোখের আলো হারিয়েছেন স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই। স্বামী-স্ত্রী ও দিনমজুর ছেলের সংসারে আলোর দ্যুতি ছড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন। মল্লিকা-কেরামত দম্পতির হাতে তুলে দিয়েছেন উপহারের আধাপাকা ঘরসহ দুই শতাংশ জমি। ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা তারা। ঘর নয়, যেন আকাশের চাঁদটাই পেয়েছেন।
মল্লিকা বিবি জানিয়েছেন, দিনমজুর ছেলে কাজ করে অতিকষ্টে আমাদের নিয়ে অন্যের জমিতে বসবাস করেছে। উপার্জন বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জমিতে হাঁস-মুরগি পালনের পাশাপাশি শাকসবজি চাষ করছে। এতে সংসারে বাড়তি আয় হচ্ছে তার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একই এলাকায় জমিসহ নির্মিত আধাপাকা ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বেতাগী উপজেলার দুই শতাধিক ভূমি ও গৃহহীন পরিবার। ঘর পাওয়া পরিবারগুলো জানায়, তারা কোনো দিন ভাবেননি মাথা গোঁজার মতো নিজেদের এমন একটি ঠিকানা হবে।
বিধবা ও পঙ্গু ঝর্ণা বেগম বলেন, তিন বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পরে একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। মানুষের বাড়িতে গৃহস্থালীর কাজ করে অতিকষ্টে জীবনযাপন করেছি। কবির ফরাজি ও কোহিনুর বেগম বলেন, বিনামূল্যে ঘরসহ জমি পেয়ে আমরা অনেক খুশি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুহৃদ সালেহীন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ১২টি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৯টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে আধাপাকা ঘর হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া তৃতীয় পর্যায়ে ৫০টি ঘরের নির্মাণকাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।