একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ফুলকুমর নদ তীরবর্তী পাঁচ গ্রামের মানুষ। এই নদ পারাপারে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা।
রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য উমা চরণ জানান, রায়গঞ্জ বাজার থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে একটি ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম রাঙ্গালীবস। এর পাশে ফুলকুমর নদের তীরে অবস্থিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ৩০০ শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিয়ে তারা বেশির ভাগ সময়ই কাজ করতে যান পাশর্^বর্তী ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের বিভিন্ন মিল-কারখানা ও চাতালে। রাঙ্গালীবস গ্রামের শিশুরাও যায় আন্ধারীঝাড় প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসায়। বর্ষায় নদ পানিতে টইটম্বুর হয়ে পড়লে বন্ধ হয়ে পড়ে বড়দের কাজ ও শিশুদের পড়ালেখা।
২২ বছর আগে গ্রামবাসী ও আবাসনের বাসিন্দারা মিলে নদের ওপর নির্মাণ করে একটি বাঁশের সাঁকো। এ কারণেই বিকল্প ও শর্টকাট রাস্তা হিসেবে চরধাউরারকুটি-রাঙ্গালীবস পথটি পরিচিতি পায় পাঁচ গ্রামের মানুষের কাছে।
স্থানীয় আলতাফ হোসেন, নজরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, আব্দুর রশিদ, আব্বাস আলীসহ অনেকেই জানান, বাঁশের এ সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন দুই সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করে। প্রতিবছরই সাঁকোটি মেরামত করতে হয়। ভেঙে যায় এর চাটাই অথবা দেবে যায় এর খুঁটি। তার পরেও এই সাঁকোটিই তাদের ভরসা। এভাবেই প্রতি বছর মেরামতের ওপরই চলছে প্রথমবার সাঁকো তৈরি থেকে এ পর্যন্ত।
এবারেও সাঁকোটির অবস্থা নাজুক। সড়ে গেছে সংযোগস্থলের মাটি, কয়েকটি জায়গায় খুঁটি দেবে গিয়ে সাঁকোর সমতল অংশ উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। বিছিয়ে রাখা চাটাই ভেঙে গেছে কয়েক জায়গায়। একটু অসাবধানতায় পড়ে যাবে নিচে পানিতে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি তাদের।
রায়গঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মণ্ডল দ্বীপ জানান, এখানে একটি সেতু নির্মাণ জরুরি। তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ওয়াসিম আতাহার জানান, আমি চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত সেখানে একটি সেতু নির্মাণ করা যায়। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটি প্রস্তাবনা পাঠাতে হবে।