ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি চালা থেকে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন বয়সী শতাধিক গজারি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বনবিভাগ কিছু গাছের লাকড়ি জব্দ করেছে। এ ঘটনায় বনআইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় স্থানীয় বনবিভাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচগাঁও মৌজার ৭ নম্বর দাগে সানরাইজ উচ্চবিদ্যালয়ের উত্তর পূর্বপাশে মৃত আহম্মদ আলী মুন্সী ওরফে মাদবর মুন্সীর ভিটা গজারির চালা থেকে বনবিভাগের অনুমতি ছাড়াই গত এক সপ্তাহে ১৪-১৫ বছর বয়সী শতাধিক গজারি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। পাঁচগাঁও গ্রামের আবদুস সালাম নামে এক ব্যক্তি জমির মালিকানা দাবি করে গাছগুলো বিক্রি করেছেন। গাছগুলো কিনেছেন পাশের উথুরা এলাকার গজারি লাকড়ি ব্যবসায়ী আবদুল হাই।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার ভালুকা ও উথুরা রেঞ্জের আওতায় বিভিন্ন চালা থেকে সঙ্ঘবদ্ধ গাছ পাচারকারীদল বনবিভাগের অসাধু ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে বিচ্ছিন্নভাবে গজারি গাছ কেটে নিয়ে সেই গাছগুলো স্থানীয় অবৈধ করাতকলে চেরাই করে ফার্নিচারের দোকান ও অন্যান্য স্থানে বিক্রি করছেন। এতে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ও বনবিভাগের দাবিকৃত একের পর এক চালা উজাড় হয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গাছ বিক্রেতা আবদুস সালামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। গাছের ক্রেতা আবদুল হাই গজারি গাছ কেনার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো বড় গজারি গাছ কেনেননি। লাকড়ির জন্য কিনেছিলেন। কিন্তু বনবিভাগ তার লাকড়িগুলো জব্দ করে নিয়ে গেছে।
উথুরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, অনুমতি ছাড়া গজারি গাছ বিক্রি বা কেনার বিধান নেই। গজারি গাছ কাটার সংবাদ পেয়ে বেশ কিছু লাকড়ি জব্দ করে বিটে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে, ওই দাগে তাদের কোনো জমি নেই। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।
উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, পাঁচগাঁও মৌজার ৭ নম্বর দাগে মোট জমি রয়েছে, ৪১ একর ৩৬ শতাংশ। তার মধ্যে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ভূমি রয়েছে ১৯ একর এবং তার মাঝে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে ১১ একর ৭০ শতাংশ। আহম্মদ আলী মুন্সী নামের অপর একজনের নামেও ৩২ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত রয়েছে। গজারি গাছগুলো কোন অংশ থেকে বিক্রি করা হয়েছে, সেটি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।