সারাদিনের প্রবল বর্ষণে বাড়ছে নদ-নদী ও হাওরের পানি। এতে ফের শঙ্কায় কিশোরগঞ্জবাসী। প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে দুর্গত এলাকাগুলোর জন্য ত্রাণ সহায়তা।
শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার প্রায় সবগুলো নদীতে ৫০ সেন্টিমিটারের ওপরে পানি বেড়েছে।
হাওরে বিশুদ্ধ পানি আর সেনিটেশন নিয়ে কাজ করেন ফ্যামিলি টাইসের নির্বাহী পরিচালক খুজিস্থা বেগম জোনাকি।
তিনি জানান, সারা দিন জেলার হাওর উপজেলাগুলোতে প্রবল বর্ষণ চলেছে। সেখানে বন্যার পানি মানুষের বাড়িঘরের উঠানে। এ পরিস্থিতিতে ভাঙছে মানুষের বাড়িঘর। মানুষজন বাঁশের বাজারে ভিড় করছেন। সেগুলো দিয়ে কোনোরকমে বাড়িঘর টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা লোকজনকে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে ইটনা, মিঠামইন, নিকলী ও করিমগঞ্জে দু’শতাধিক মাছের খামার ভেঙে বন্যার পানির সাথে একাকার হয়ে গেছে। ভেঙেছে বাড়িঘর। এতে কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়।
করিমগঞ্জের গুণধর ইউনিয়নে করিমগঞ্জ-নিকলি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সড়কের পাশে খয়রত এলাকায় দেখা যায়, আজিজুল ইসলাম নামে এক কৃষকের বাড়ির পেছনের অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢেউয়ে তার পাকা ঘর এখন হুমকির মুখে। আজিজুল জানান, ইতোমধ্যে তিনি পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, কিশোরগঞ্জে পানি আরো বাড়বে।
হাওর এলাকাগুলোর কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, বন্যায় পানিবন্দী, বাড়িঘর ভাঙার পাশাপাশি কোনো কোনো জায়গায় উঁচু সড়কেরও ক্ষতি হচ্ছে। দুর্গত এলাকাগুলোর জন্য ত্রাণ সহায়তা প্রস্তুত রাখার দাবি জানান তারা ।
জেলার ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন বলেন, বন্যায় ইতোমধ্যে সেখানকার মানুষের বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের সঙ্কটে পড়বে ওই এলাকার মানুষ।
এদিকে করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সায়েম রাসেল ভূঁইয়া জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধির কারণে তার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে মাছের খামার তলিয়ে গেছে। ঝুঁকির মুখে পড়েছে বেশ কিছু বাড়িঘর।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মতিউর রহমান বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জের মতো কিশোরগঞ্জেও বন্যা বাড়ার শঙ্কা আছে।
আগামী কয়েক দিনে কিশোরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি কেমন হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে মতিউর রহমান বলেন, সবগুলো অববাহিকাতেই পানির প্রবাহ বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এখন তা বলা যাচ্ছে না।



