পুলিশের পোশাক পরে বিদেশী মুদ্রা ডলার-রিয়ালসহ ২৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার ভৈরবের ব্যবসায়ী মো: দেলুয়ার হোসেন নরসিংদীর রায়পুরা থানায় এই অভিযোগ করেন।
ছিনতাইকারীরা টাকা নেয়ার সময় দেলুয়ারের ভাই ভুক্তভোগী আক্তার হোসেনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। গত বৃহস্পতিবার ভৈরবের কাছে নরসিংদীর রায়পুরা থানার রামনগর গ্রাম এলাকার একটি সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী দেলুয়ার হোসেনের বাড়ি রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে। তার বাবা মৃত হুমায়ূন কবির। তবে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ভৈরব বাজারে অবস্থিত।
অভিযোগে জানা গেছে, দেলুয়ার হোসেনের ছোট ভাই মো: আক্তার হোসেন (৩৪) বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় ভৈরববাজার থেকে ব্যবসার কাজ শেষ করে নগদ দুই লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, ৭২ হাজার ২৫০ সৌদী রিয়াল, পাঁচ হাজার ইউএস ডলার নিয়ে মটরসাইকেলযোগে বাড়ি যাওয়ার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পার হয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নগর উত্তরপাড়া ব্রিজের ১০০ গজ দক্ষিণে পৌঁছলে পুলিশের পোশাক পরে অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জন লোক তাকে ধাওয়া করে।
এ সময় আক্তার হোসেনের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাকে টানা-হেঁচড়া করে বেদম মারপিট করার পর তার ব্যাগে থাকা ডলার ও রিয়ালসহ ২৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় তার দুটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা, যার মূল্য ৩১ হাজার ৪০০ টাকা বলে অভিযোগে বলা হয়। এ সময় আক্তার হোসেনের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে ছিনতাইকারীরা একটি নোয়া সাদা রঙয়ের মাইক্রোবাসে উঠে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী দেলুয়ার হোসেন আজ শনিবার সকালে জানান, ঘটনার দিন আমার ভাইয়ের ডলার-রিয়ালসহ ২৭ লাখ টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। আমার ভাই হজ্জের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। ভৈরব থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে ঘটনাটি ঘটে।
ছিনতাইকারীরা পুলিশের পোশাক পরা ছিল। তারা আমার ভাইকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। বিষয়টি আমি পুলিশের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং আজ শনিবার রায়পুরা থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছি।
রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আজিজুর রহমান জানান, অভিযোগের কথা আমি শুনেছি। তবে এখনো অভিযোগটি আমার হাতে আসেনি।
নরসিংদী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সাহেব আলী পাঠান জানান, ঘটনার রাতেই আমরা এ খবর পেয়েছি। পুলিশের পোশাক পরে এমন ঘটনা কারা করলো তা তদন্ত করা হচ্ছে। যদি তদন্তে প্রমাণ হয় পুলিশ এমন কাজ করেছে, তবে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রতারকরাও পুলিশের পোশাক পরে এমন কাজ করতে পারে। বিষয়টি তদন্তের পর প্রমাণ মিলবে বলে তিনি জানান।



