ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক থেকে নেমে আসা ভালুকার সিডস্টোর-সখিপুর রোডের লাউতি খালের ওপর নির্মিত সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেতুর পাশ দিয়ে একটি বিকল্প রাস্তা চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বিকল্প রাস্তাটিও সঠিকভাবে নির্মাণ না করায় গত দু’দিনের বৃষ্টিতে রাস্তাটি ভেসে গিয়ে সেতুর দু’পাড়ের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, সেতুর বিকল্প রাস্তার ওই অংশে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বালু-মাটি দিয়ে হালকা যান চলাচলের ব্যবস্থা করে দিলেও ঠুনকো সংস্কারে তেমন কোনো সমাধান হচ্ছে না। ভাঙা সেতুর উভয় পাশে মালামাল ভর্তি ভারী যানবাহন আটকে রয়েছে। চালকরা জানান, সেতুর বিকল্প রাস্তাটি পানিতে ভেসে যাওয়ায় এখন আর সামনে এগুনো সম্ভব হচ্ছে না। ঘুরে বিকল্প রাস্তায় ওঠে যাওয়াও দ্বিগুণ খরচের বিড়ম্বনায় পড়তে হবে। চালকরা অভিযোগ করেন, ব্রিজটি বন্ধ থাকলেও প্রবেশ পথে কোনো নির্দেশনা ছিল না। তাহলে তাদের আর এ পথে আসতে হতো না। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কাঁঠাল ও কাঁচামালবাহী যান, গার্মেন্টকর্মীসহ হাজার হাজার মানুষ এখন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮২ সালের দিকে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত আরসিসি সেতুটি নিম্নমানের হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণের আগেই এটি চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে গেছে। তারা আরো জানান, সিডস্টোর-সখিপুর সড়কের কাজ অতি ধীরগতিতে হওয়ার কারণে এর বিভিন্ন অংশে খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এখন বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘœ ঘটছে।
এ ব্যস্ত সড়কটিতে প্রতিদিনই শত শত গাড়ি, মালবাহী যান ও পথচারীরা যাতায়াত করে। ছোট গাড়িগুলো প্রায়ই গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি, এই ভাঙা ব্রিজটির নির্মাণ চলাকালীন স্টিলের বিকল্প একটি রাস্তা নির্মাণ করে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো: রফিকুল ইসলাম জানান, সেতু নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কার কারার কারণে সাধারণের জন্য পুরনো সেতুটির পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা করা হয়েছিল। কিন্তু উজানের ঢলের কারণে সেটি ভেঙে গেছে। এখন দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।