ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ কর্মকাণ্ড। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় তারা স্কুলগামী ছাত্রীদের ইভটিজিং করছে, প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। বিভিন্ন স্পটে থেকে সুযোগ বুঝে পথচারী ও অন্যদের মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনতাই করছে।
আটকরা হচ্ছে শহরের মধ্যপাড়ার জামাল উদ্দিনের ছেলে জুম্মান উদ্দিন, ফুলবাড়িয়ার এ কে এম ফজলুল হকের ছেলে ফায়াজ ফারমিদ মোবিন, উত্তর পৈরতলার মো: সোহেল মিয়ার ছেলে মেরাজুল হক সৌরভ, মধ্যপাড়ার মুকুল পালের ছেলে সূর্য পাল, কাজীপাড়ার সুকুমার দাসের ছেলে ছানি দাস, পূর্ব পাইকপাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মো: রিপন, লোকনাথ উদ্যান (টেংকেরপাড়) এলাকার আবু ছায়েদের ছেলে মো: বাবুল, খৈয়াসারের এমদাদুল হকের ছেলে আশরাফুল হক পায়েল, পশ্চিম মেড্ডা পীরবাড়ি এলাকার আলমগীর ভূইয়ার ছেলে আলমাস ভূইয়া, কাজীপাড়ার তরুণ বণিকের ছেলে দিপানজন বণিক, কান্দিপাড়ার আনিসুর রহমানের ছেলে রোহান রহমান ওয়াছি, পশ্চিম পাইকপাড়ার নাসির আহমদ খানের ছেলে জাফল উল্লা খান, হালদার পাড়ার সাইফুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের ছেলে মো: সাহিদ হাসান, বিজয়নগর উপজেলার পত্তন গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল হাসনাত আসিফ, আখাউড়া উপজেলার হিরাপুর গ্রামের মাইনুল ইসলামের ছেলে মো: সিয়াম ভূইয়া, নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর গ্রামের ইন্দ্রজিৎ সরকারের ছেলে পাপন সরকার, একই উপজেলার গুনিয়াউক গ্রামের মো: জামিরুল ইসলাম ও নবীনগর উপজেলার খরিয়ালা গ্রামের আবদুল হেকিমের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত। এদের সবার বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
জানা গেছে, শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস শুরু ও ছুটির সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও কলেজ হোস্টেলের সামনে, খোলা জায়গায়, পার্কের বা মার্কেটের সামনে অবস্থান করে এবং সুযোগ বুঝে স্কুল ছাত্রীদের ইভটিজিং করে, মোবাইল ও টাকা পয়সা কেড়ে নেয়।
বিগত ১৫ দিনে লোকনাথ উদ্যানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রতিপক্ষের কিশোরদের মারধরসহ বেশ কয়েকটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেছে। গত এক মাস আগে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কলেজের এক ছাত্রীকে মারধর করে তার মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে সেই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, ১৯জন কিশোর অপরাধীকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরা ছিল। তাদের ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।



