গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। জেলার তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়েই চলছে এখনো। এতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে শত শত পরিবার গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়ে এলাকা ছেড়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় ক্রমেই বাড়ছে পানি। ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটাসহ ফসলি জমি। ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের ডাকুয়া চরের বদিউজ্জামান জানান, ‘গত দু‘দিন থেকে যমুনার নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। অনেকের বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে গেছে। এ ইউনিয়ন সম্পূর্ণ চর হওয়ার কারণে আশেপাশে আশ্রয় নেয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে গাইবান্ধা ও পাশের জেলা জামালপুর শহরের উঁচু জায়গায় আশ্রয়ের জন্য ছুটছে অনেকেই।’

কামারজানির ইউনিয়নের ছালাম মিয়া বলেন, ‘বন্যার পানি হুহু করে বাড়ছে। বাড়ি ঘরে পানি উঠছে। সরকারি বা বেসরকারিভাবে এখনো কেউ আমাদের পাশে ত্রাণ-সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ায়নি।’

উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উপজেলার হরিপুর, শ্রীপুর চণ্ডিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র হয়েছে ভাঙ্গন। উজানের ঢলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় কমপক্ষে ১৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি এসব পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ-বাঁধে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

হরিপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গার চর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া জানান, ‘পানি এখনো ঘরের ভেতরে উঠেনি। তবে যে হারে পানি বাড়ছে, তাতে করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে যাবে।’

তিনি আরো, ‘বলেন গত এক সপ্তাহের নদী ভাঙ্গনে তার তিন বিঘা জমি উঠতি তোষাপাটসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।’

কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনজু মিয়া জানান, ‘তার ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ৫০টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে। ভাঙন ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া চরাঞ্চলে চলাচল কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বন্যা-দুর্গতদের জন্য সরকারিভাবে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানান বানভাসীরা । এছাড়া এনজিওগুলোকে বানভাসীদের পাশে দাঁড়ানোর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।