নিখোঁজের প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর কলেজিয়েটের ছাত্র তৌফিক আহম্মেদ তারেকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ছাগলখাইয়া এলাকায় নাপিত্তাছড়া থেকে তার লাশ উদ্ধার করে মিরসরাই থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরসরাই থানার ওসি কবির হোসেন।
স্থানীয় সালাহ উদ্দিন অপু জানান, মঙ্গলবার সকালে ছড়ায় একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ নিয়ে গেছে।
এর আগে গতকাল সোমবার বিকাল ৪টার দিকে নিখোঁজ দুই সহোদরের একজন তানভীরের লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে একসাথে দুই আপন ভাই তাদের এক বন্ধুকে নিয়ে ঘুরতে যায় মিরসরাইয়ের নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায়। গত রোববার (১৯ জুন) বিকালে তারা তিনজনই নিখোঁজ হলে দিবাগত রাতে ঝর্ণার পানিতে ভাসমান অবস্থায় একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সকালে তৌফিক আহম্মেদ তারেক, মাসুদ আহম্মেদ তানভীর ও ইশতিয়াকুর রহমান প্রান্ত চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা দেখার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তারা ঝর্ণা এলাকার একটি টি-স্টলে নিজেদের ব্যাগ রেখে ঝর্ণার চূড়ায় আরহণ করেন। এরপর তারা তিনজনই নিখোঁজ হন।
তবে ঝরনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে মিরসরাই থানা পুলিশকে খবর দেয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা রাত ৮টার দিকে নিখোঁজ ইশতিয়াকের লাশ উদ্ধার করে। নিহত ইশতিয়াক চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর বি ব্লকের বাসিন্দা জনতা ব্যাংকের মহা ব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছেলে।
ইশতিয়াকের বাবা মোহাম্মদ জাকারিয়া অভিযোগ করেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা যদি এই বৃষ্টির মধ্যে ছেলেদের বাধা দিতো তাহলে এভাবে তাদের হারাতে হতো না। তারা টিকেট বিক্রি করেছে অথচ কোনো গাইডের ব্যবস্থা রাখেনি।
নিহত তানভীর ও তারেকের মামা মো: তৌহিদুল ইসলাম সুমন জানান, আমার বোন-বোন জামাইয়ের সব শেষ হয়ে গেছে। একসাথে দুটি ছেলেকে হারাতে হবে কোনোদিন চিন্তা করতে পারেনি। দুলাভাই (তারেক, তানভীরের বাবা) অসুস্থ হয়ে বাসায় থাকেন। পড়াশোনা শেষ করে দুই ছেলে সংসারের হাল ধরার কথা, অথচ দু’জনই চলে গেল।
নিহত তানভীর চট্টগ্রাম নগরীর ইউএসটিসি’র স্নাতকের ছাত্র এবং নিখোঁজ তারেক চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। তাদের বাবা সাহাব উদ্দিন ব্যবসায়ী। নিহত ইশতিয়াক তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সে চট্টগ্রাম ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে।



