গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের। ব্রহ্মপুত্র নদীর তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত এমন অবস্থা বিরাজমান বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের কষ্ট দিন দিন বেড়েই চলছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পাশাপাশি ওইসব এলাকায় গো-খাদ্য সঙ্কটে পড়ায় গবাদিপশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে স্থানীয়রা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নের ৯৬টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত। পানি বৃদ্ধির ফলে ২১ হাজার ৮৩৪ পরিবারের ৪৭ হাজার ৪৬৬ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬১ হাজার ৫১৪ জন মানুষ।
এছাড়াও প্রশাসন জানায়, বন্যাকবলিত ওই চার উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ইতোমধ্যে ৮০ টন চাল, নগদ ছয় লাখ টাকা, শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ ১৫ লাখ ৫০ হাজার, গো খাদ্য ক্রয় বাবদ ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা ইতোমধ্যে বিতরণের কাজ চলছে। অপরদিকে ১০৫টি শুকনো খাবারপ্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ত্রাণ ভান্ডারে জিআর ৫২৫ টন চাল মজুদ রয়েছে বলেও জানানো হয়।



