ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বাঘসাতরা খালের বেশির ভাগই প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। বর্তমানে ওই খালের অনেক জায়গায় বাঁধসহ ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাঘসাতরা খালটি একসময় নদীর মতো ছিল। যখন গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাট কম ছিল তখন এই খাল দিয়ে বড় বড় নৌকা বিভিন্ন এলাকা থেকে মালামাল আনা নেয়া হতো। বেশ কয়েক গ্রামের জনসাধারণের যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল এই খাল। কিন্তু কালের আবর্তে নদীটি বিলীন হয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছে। তারপরও শেষ রক্ষা হলো না, বর্তমানে প্রভাবশালীরা খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে গড়ে তুলছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িসহ বহুতল ভবন।
মেদুয়ারী বাঘসাতরা খালপাড়ের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পানি যাওয়ার জন্য খালের এক পাশে সরু কালভার্ট রেখে এপাড় ওপাড় দখল করে স্থানীয় জবান আলীর ছেলে জুয়েল মিয়া ও তার চাচা সিরাজুল ইসলাম বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।
এ সময় আবুল কাশেম, আবু বকর ও সাইমুদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, প্রায় ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ খালটিকে একসময় বাঘসাতরা নদী হিসেবে সবাই জানতো এবং তা উজানের ফুলবাড়ি উপজেলা থেকে শুরু হয়ে মেদুয়ারীর ওপর দিয়ে ভালুকা সদর হয়ে খিরু নদীতে গিয়ে মিশেছিল। কিন্তু বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় খালটির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে। ফলে ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশনের অভাবে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতাসহ ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
বহুতল ভবন নির্মাণকারী জুয়েল মিয়া জানান, স্থানীয় খালেক মিয়ার কাছ থেকে তিনি ৭ শতাংশ জমি কিনে ভবনটি নির্মাণ করছেন। তবে পানি আসা যাওয়ার জন্য ভবনের নিচ দিয়ে কালভার্ট রেখেছেন।
এদিকে এই খালের ভালুকার চাপরবাড়ি, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুচিভিটা ও কানারবাজার এলাকায় ভালুকা-গফরগাঁও সড়কের ওপর সড়ক ও জনপথের সেতুটির নিচে ইটের দেয়াল দিয়ে পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে পৌর এলাকার আশপাশ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করছেন।
উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়ন সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাঘসাতরা খালের ওপর ভবন নির্মাণের কথা স্বীকার করে জানান, তিনি সরেজমিন গিয়ে ভবন নির্মাণ করতে দেখে কাগজপত্র যাচাই করে দেখেছেন। তবে বাঘসাতরা খালটি বর্তমান নকশায় পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।



