দৈনিক নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর ত্রাণসামগ্রী পেয়েছে নিকলী উপজেলার ভাটিবরাটিয়া এলাকার বন্যার্তরা।

রোববার সকালে নিকলী উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস ভূঁইয়া জনি ওই গ্রামে ও আশপাশের এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যান। তারা সেখানে ১২০ প্যাকেট শিশু খাবার এবং ১১০ প্যাকেট গরুর ফিড খাবার বিতরণ করেন।

শিশু খাবারের প্রতি প্যাকেটে ছিল চিড়া ২ কেজি, মুড়ি ১ কেজি, গুড় আধা কেজি, সুজি আধা কেজি, গুঁড়ো দুধের প্যাকেট ২০০ গ্রাম, টোস্ট বিস্কুট আধা কেজি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস ভূঁইয়া জনি, ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক আয়াজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেজিয়া আক্তার, উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাফিস এলাহী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী জিল্লুর রশিদ ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এসব ত্রাণ তুলে দেন।

ত্রাণ সামগ্রী পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বন্যাকবলিত মানুষেরা।

গ্রামের কামরুন নাহারের (৫০) পরিবারে সাতজন লোক। এর মধ্যে ছোট শিশুও রয়েছে। ত্রাণ পেয়ে তিনি বলেন, ‘খুব কষ্টে আছিলাম আমরা, এগুলো পাইয়া কিছুটা আসান হইছে, আল্লাহ চেয়ারম্যান সাবরে ভালা রাখুক।’

হাসান ও হোসাইন নামের নয় মাসের দুই যমজ শিশুকে নিয়ে ত্রাণ নিতে এসেছিলেন সোনিয়া আক্তার (২২)।

তিনি বলেন, ‘বন্যায় আমরার সবকিছু ভাসায়া নিয়া গেছে। দুইডা বাচ্চারে লইয়া কষ্টে আছিলাম, পত্রিকাত খবর হওনে এই মালগুলো পাইছি। আফনেরার সবার লাগি দোয়া করি।’

ভাটিবরাটিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, তার সাতটি গরু রয়েছে। বন্যার কারণে গরুগুলোর খাদ্যের অভাব। গরুর খাবার ত্রাণ পেয়ে তিনি খুশি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নয়া দিগন্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পত্রিকাটিতে লেখার কারণেই দ্রুত প্রশাসন এই এলাকায় নজর দিয়েছে এবং বন্যার্তদের সহায়তায় ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে।

খবরটি আমার চোখে পড়ার পরেই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। সাথেসাথেই তারা বরাদ্দ পাঠিয়েছে। সামনে আরো বরাদ্দ পাঠাবে। নয়া দিগন্তের কাছে আমরা (জনপ্রতিনিধিরা) এ রকম সরেজমিন সংবাদ আরো আশা করি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার নয়া দিগন্তের শেষের পাতায় নিকলী উপজেলার ভাটিবরাটিয়া গ্রামের বন্যার্তদের হাহাকার নিয়ে ‘তিন দিন ধইরা না খায়া আছি, কেউ তেরান লইয়া আয় নাই’ শিরোনামে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়।

এদিকে, নিকলী উপজেলাসহ জেলায় বন্যার পানি কিছুটা কমেছে। তবে কালনী কুশিয়ারার পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ধনু বৌলাই নদীর পানিও বিপদসীমার উপরে।

জেলার বেশকিছু গ্রাম এখনো পানির নিচে। এলাকার পানিবন্দী লোকজনের দুর্ভোগ এখনো চরমে। ডুবে আছে রাস্তাঘাট, কবরস্থান শ্মশান। এ নিয়ে আরেকটি সরেজমিন প্রতিবেদন আসছে সোমবার।