দিনটি ছিল ২০১৯ সালের ২৬ জুন। বরগুনার বহুল আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত হত্যার দিন। শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। নিম্ন আদালতে বিচারের রায় হলেও আপিলে উচ্চ আদালতে ঝুলে আছে মামলার বিচারকাজ।
সেই দিন সরকারি কলেজের এক ছাত্র নিজের মোবাইল ফোনে সেই ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে। দ্রুত বিচার শেষে রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তার স্বজনসহ এলাকাবাসী।
বন্ড বাহিনীর নৃশংস হামলায় তিন বছর আগে নিহত হন শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ। সেই থেকে ছবির মধ্যেই একমাত্র ছেলেকে খুঁজে বেড়ান তার অসুস্থ মা ডেইজি আক্তার। ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা দুলাল শরীফও। এ ছাড়াও দণ্ডিত আসামিরা জামিনে মুক্তি পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা। তাই দ্রুত বিচার শেষে আসামিদের রায় বাস্তবায়নের দাবি রিফাতের পরিবারসহ এলাকাবাসীর।
২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নিহত রিফাতের স্ত্রীসহ ছয় আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ওই বছরের ২৭ অক্টোবর অপ্রাপ্তবয়স্ক ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন জেলা শিশু আদালত। রায়ের পর দণ্ডিত সব আসামি উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। এখন সেই আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়াও এ মামলায় দণ্ডিত ১৭ আসামির মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক পাঁচজন জামিনে রয়েছেন।
নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, নিম্ন আদালতে আমার ছেলে হত্যা মামলার রায় দ্রুত হলেও ঝুলে আছে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। অতি শিগগিরই এই রায় কার্যকর হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। এই মামলায় উচ্চ আদালতে আপিল করেন আসামিপক্ষ। কোনো আপিল এখনো শুনানি হয়নি। সব আপিল শুনানির জন্য আছে।



