পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলা ও গুলিবর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাকারিয়া পিন্টুকে কারাগারে পাঠিয়েছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে তাকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে শনিবার রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

পিন্টু ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালী কাচারীপাড়ার মৃত আব্দুস সামাদ গার্ডের ছেলে। তিনি ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পাবনা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, র‌্যাব বিশেষ অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা পিন্টুকে গ্রেফতার করে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোববার রাতেই পিন্টুকে ঈশ্বরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে বিশেষ নিরাপত্তজনিত কারণে তাকে রাতেই জেলা ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। সোমবার আদালতে সোপর্দ করার পর পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ও ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে বোমা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই ঢাকার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক ঈশ্বরদী বিএনপির শীর্ষ নয় নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

আলোচিত এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত ৪৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। এর মধ্যে নয়জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

২০১৯ সালের ৩ জুলাই স্পেশাল ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার আগের দিন ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে ভারতে পালিয়ে যান পিন্টু। তারপর থেকেই দীর্ঘ দিন তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পলাতক ছিলেন।