গাজীপুরে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে এক যাত্রীকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে চাকায় পিষ্ট করে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তাকওয়া পরিবহনের হেলপার হীরা মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম লাবনী আক্তারের আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চালক শফিকুল ইসলামকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিএমপি’র সদর থানার এসআই সাইদুর রহমান জানান, গাজীপুরের শিববাড়ি মোড় এলাকায় ভাড়া নিয়ে বাক-বিতণ্ডার জেরে সায়েম (২০) নামের এক যাত্রীকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তাকওয়া পরিবহনের হেলপার হীরা মিয়া (২৭) ও চালক শফিকুল ইসলামকে (২৬) শুক্রবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালতে হাজির করার পর হেলপার হীরা মিয়া বিচারক বেগম লাবনী আক্তারের আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত বাসচালকের রিমান্ড শুনানি শেষে তার দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, যাত্রীকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় আটক তাকওয়া পরিবহনের বাসটির রুট পারমিট ছিল না। তাছাড়া ওই বাসের গ্রেফতার চালক শফিকুল ইসলামের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। শিক্ষানবিশ (লার্নার) লাইসেন্স নিয়ে তিনি ঘটনার সময় বাসটি চালাচ্ছিলেন।

জিএমপি’র সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সৈয়দ রাফিউল করিম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে যাওয়ার জন্য জোড়পুকুর থেকে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসে উঠেন সায়েম (২০)। পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে বাস চালকের সহযোগী (হেলপার) হীরা মিয়ার সাথে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয় তার। বাক-বিতণ্ডার জেরে সায়েমকে শিববাড়ি না নামিয়ে বেপরোয়া গতিতে বাসসহ সায়েমকে চান্দনা চৌরাস্তার দিকে নিয়ে যেতে থাকে চালক ও হেলপার। কিছুদূর যাওয়ার পর জয়দেবপুর-চান্দনা চৌরাস্তা সড়কের এশিয়া ফার্নিচারের সামনে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে সায়েমকে নিচে ফেলে দেন হেলপার হীরা মিয়া। বাস থেকে নিচে পড়ে ওই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন সায়েম। বাসটি নিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাসসহ চালক শফিকুল ইসলাম (২৬) ও হেলপার হীরা মিয়াকে (২৭) আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবু সাঈদ জিএমপি’র সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার করা হয় চালক ও হেলপারকে।