রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। নাড়ির টানে সবাই ছুটছে বাড়িতে। স্বভাবতই দেশের সব সড়ক-মহাসড়ক, টার্মিনাল, নৌঘাট এলাকায় উপচেপড়া ভীড়। দেশের অন্যতম আরিচা মহাসড়কেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দেখা নেই কোনো গাড়ির, চাপ নেই যাত্রীর। যানজটমুক্ত মহাসড়কের এই চিত্র আগে দেখেনি কেউ। পদ্মা সেতু চালু হওয়াতেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষই পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন।

বিগত ঈদগুলোতে এই সময়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কমপক্ষে সাত দিন সীমাহীন দুর্ভোগ সাথী করে বাড়ির পথে যাত্রা করতেন মানুষ। তবে এই মুহূর্তে এ চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অনেকটাই গাড়ি শূন্য। তবে কিছুক্ষণ পর পর কোরবানির পশুর ট্রাক ও মিনি ট্রাক চলাচল করছে এই রুটে।

মহাসড়কের বানিয়াজুরী বাসস্টান্ডের দোকানদার মো: ইদ্রীস আলী বলেন, অল্প যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে কিছু বাস ও প্রাইভেটকার। সড়কে লেগুনা-অটোরিকশাসহ অন্যান্য স্থানীয় পরিবহনের চাপও নেই বললেই চলে। সব মিলিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এখন ফাঁকার তালিকায় উঠে এসেছে।

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের আব্দুস সালাম নামে এক যাত্রী বলেন, সাভার থেকে মানিকগঞ্জ আসতে সময় লেগেছে আধা ঘণ্টা। পরিবার নিয়ে আরামেই এলাম। রাস্তা ফাঁকা, কোথাও যানজট নেই। এমন দৃশ্য জীবনেও দেখিনি।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মহাসড়কের বানিয়াজুরী, মানিকগঞ্জ, বরংগাইল স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অল্প দূরত্বের মানুষজন অটোরিকশা-লেগুনা এবং বেশি দূরত্বের যাত্রীরা নিজেদের প্রয়োজন মতো প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসে যাতায়াত করছেন। এছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ লক্ষ করা যায়নি।

তবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়িয়েছে কিছু ভিন্ন রুটের বাস। স্বাভাবিক ছিল দূর পাল্লার যানবাহনগুলোও। তখন ঢাকা ছেড়েছেন অসংখ্য মানুষ। এছাড়া শিল্প-কারখানাগুলো ঈদের তিন দিন আগে ছুটি ঘোষণা করায় শ্রমিকরাও যার যার মতো গাড়ি ভাড়া করে চলে গেছেন নিজেদের গন্তব্যে।

বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো: জাকির হোসেন বলেন, শনিবার সড়কের পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। কোথাও কোনো যানজট নেই। মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সদস্যরা রয়েছে। তারা সড়কের পরিস্থিতি মনিটরিং করছে।