টংগীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নে জহুরা সিরাজ নামের এক নারীকে কুপিয়ে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বুধবার মুন্সীগঞ্জ চার নম্বর আমলী আদালতে বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালমা বেগম গ্রেফতার আকাশ মালতের রিমান্ড চাইলে বিজ্ঞ বিচারক মানিক দাস দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত জহুরা সিরাজের মেয়ে স্কুলশিক্ষিকা সুবর্ণা ইয়াসমিন (২৮) টংগীবাড়ি থানায় মামলা করেন। ঘটনার দিন রাতেই আসামি আকাশ মালতকে (৩০) স্থানীয়রা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
জানা গেছে, টংগীবাড়িতে জহুরা সিরাজকে (৪০) কুপিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনার সাত দিন চলে গেলেও ছিনতাই হওয়া নগদ টাকা, মোবাইল ও ছিনতাইয়ের সময়ে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
সুবর্ণা ইয়াসমিন জানান, ‘মা জহুরা ছেলের ঢাকাস্থ বাসা থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসার পথে বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) রাত ১টার দিকে কামারখাড়াগামী মিতারাস্থ আশরাফুল উলুম মাদরাসার পশ্চিম পাশের রাস্তায় আমার মাকে আকাশ মালত একা পেয়ে পথরোধ করে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখান। তখন মা তাকে চিনে ফেলায় আকাশ মালত ও তার সাথে থাকা অপর আসামি তার মা জহুরা সিরাজের মাথার পেছনে, বুকের বাম পাশে, পিঠের বিভিন্ন স্থানে ও বাম হাতে এলোপাথাড়ি ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। আমার মায়ের কাছ থেক এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইলফোনসহ ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যান। মায়ের চিৎকার শুনে মিঠুন মন্ডল (৩০), আতাউর রহমান (৫০), আসলাম রাড়ি (৬৫), নাহিদা (৪৫) তাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। অবস্থা গুরুতর দেখে ঢাকা মেডিক্যালে রেফার্ড করা হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আসামি আকাশ মালতকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায় টংগীবাড়ি থানা পুলিশ। তবে ছিনিয়ে নেয়া নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইলফোনটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে টংগীবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা সোহেব আলী জানান, অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় ব্যবহৃত কোনো আলামত এখন পর্যন্ত জব্দ হয়নি। ছিনতাই করা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।



