দিনাজপুরে গরুর চামড়া আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পিস দরে বিক্রি হলেও ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে পারেননি চামড়া মালিকরা। কারণ ছাগলের চামড়া কেনার কেউ ছিল না। ফলে ছাগলের চামড়াগুলো আড়তেই ফেলে যান মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। পরে পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়িতে করে এসব চামড়া ময়লা গাড্ডায় ফেলে দেয়া হয়। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার সবচেয়ে বড় চামড়ার আড়ত বলে পরিচিত রামনগর চামড়ার আড়তে এ ঘটনা ঘটে। কোরবানির পর শহরের রামনগর চামড়া বাজারে ফেলে দেয়া এসব চামড়া সোমবার সকালে পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়িতে নিয়ে তা মাতাসাগর ডাম্পিং স্টেশনে ফেলে দেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। এ দিকে ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ সাহাবাজপুর গ্রামের মাজহারুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ৮০০ টাকায় ৬০ পিস ছাগলের চামড়া কিনে রোববার সন্ধ্যায় চামড়াগুলো বিক্রি করতে স্থানীয় আড়তে যান। আড়তদাররা ছাগলের চামড়া কিনতে অনীহা প্রকাশ করায় ওই যুবক হতাশ হয়ে চামড়াগুলো ছোট যমুনা নদীতে ফেলে বাড়ি ফেরেন। দিনাজপুর সদর উপজেলার কমলপুর বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী মো: হামিদুর রহমান জানান, তিনি গরুর চামড়া কিনলেও ছাগলের চামড়া কেনেননি। একইভাবে ফুলবাড়ীর চামড়া ব্যবসায়ী শমসের আলী জানান, কোরবানি আকার ও প্রকার ভেদে গাভীর চামড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং আড়িয়া গরুর চামড়া ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে কিছু চামড়া কিনে আড়তদার কাবির হোসেনের কাছে বিক্রি করেছেন। ছাগলের চামড়ার ক্রেতা না থাকায় এক টাকা দিয়েও কেউ ছাগলের চামড়া কেনেনি।
দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, গত বছর সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছিল তার চেয়ে প্রতি বর্গফুটে ১০ টাকা কমে ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। তারা সিন্ডিকেট করে দাম নির্ধারণ করেন। বাধ্য হয়ে সেই দামেই চামড়া বিক্রি করতে হয়। তাই সরকার দাম বাড়ালেও আমাদের কোনো লাভ নেই। ট্যানারি মালিকরা যা নির্ধারণ করবেন তাই সঠিক এর বাইরে কোনো কিছু করার থাকে না। ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা বকেয়া থাকায় অনেকেই পথে বসেছেন। অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। সূত্র আরো জানায়, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট বাড়ানো হয়েছে ৭ টাকা এবং খাসির চামড়া বাড়ানো হয়েছে ৩ টাকা। সরকার দাম নির্ধারণ করলেও তারা এই দাম কোনো দিনই পান না। ট্যানারি মালিকদের ইচ্ছামতো দামেই তাদেরকে চামড়া বিক্রি করতে হয়। দিনাজপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলাল বলেন, ‘সরকার ছাগলের চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮-২০ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিলেও মোকামে দাম নেই। একটি ছাগলের চামড়া ১০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারেনি মৌসুমি বিক্রেতারা। কারণ আড়তে ছাগলের চামড়ার কোনো চাহিদা ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘আমার পরিচালিত দু’টি মাদরাসাসহ শহরের কয়েকটি মাদরাসা থেকে সংগ্রহ করা ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। আমার জানামতে, অনেক কোরবানিদাতাও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে একই পথ অনুসরণ করেছেন।’ ছাগলের চামড়া ফেলে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দিনাজপুর চামড়া মালিক গ্রুপের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর জুলফিকার আলী স্বপন বলেন, ‘ট্যানারিগুলোতে ছাগলের চামড়ার কোনো চাহিদা নেই। চামড়া কেনার পর তা প্রক্রিয়াজাত করতে খরচ আছে। ফলে এই চামড়া কিনে কেউ ঝুঁকি নেননি। অনেকে চামড়া ফেলে গেছেন। পরে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছেন।’