হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাশডর গ্রামের জহির আলী (৮০) হত্যা মামলার বাদী তার ছেলে আরশ আলীকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ছেলেকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ১৪ জুলাই নবীগঞ্জ কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমুর সরকার আরশ আলীর একটি নারাজী পিটিশন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেয়।

জানা যায়, ২০২০ সালে একটি গ্রাম্য দাঙ্গার পরবর্তী সময়ে জহির আলী খুন হন। জহির আলীর ছেলে আরশ আলী বাদী হয়ে ৯২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম মামলার তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাদীর সম্পৃক্ততা খুঁজে পান। এক পর্যায়ে বাদীর মানিত সাক্ষী জিলু মিয়া, শামসুল হকসহ বেশ কয়েকজন সাক্ষীকে গ্রেফতার করেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে জহির আলী হত্যাকাণ্ডের সাথে ছেলে আরশ আলী ও তাদের নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। গ্রেফতারের পর বাদীর মানিত অন্তত তিনজন সাক্ষী ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূল জবানবন্দি প্রদান করেছে। তাদের দেয়া তথ্য মতে জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ফিকল। নিহত জহির আলীর ছেলে আরশ আলীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ফিকলে লেগে থাকা রক্ত। পরে সেই রক্ত পাঠানো হয় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে।

পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় ফিকলের মাথায় লেগে থাকা রক্ত ও নিহত জহির আলীর রক্তের মধ্যে মিল রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ৯২ জন আসামির মধ্যে ১৭ জনকে এবং বাদী আরশ আলী ও তার মানিত সাক্ষীদের মধ্যে আরো ৭ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন।

বৃহস্পতিবার চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজী পিটিশনের শুনানি হয়।

আদালত নারাজী পিটিশন নামঞ্জুর করে ২৪ জনকে আসামি করে দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করে। একইসাথে আদালতে নারাজী পিটিশন শুনানির জন্য হাজির মামলার বাদী আরশ আলীকে হত্যা মামলার আসামি হিসাবে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী মামুন বক্ত এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।