কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ঝগড়ার পর সরস্বতী রানী (৩০) নামের এক গৃহবধূকে ঘুমের মধ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর রঞ্জিত চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর রঞ্জিত চন্দ্র দাস পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার লক্ষনপুর মালেকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সরস্বতী রানী মনোহরগঞ্জ উপজেলার লক্ষনপুর পূর্রপাড়ার মালেকার বাড়ির রঞ্জিত চন্দ্র দাসের স্ত্রী ও হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল গ্রামের উমেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মালেকার বাড়ির ঝাল-মুড়ি বিক্রেতা সুশীল চন্দ্র দাসের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র দাসের সাথে হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল গ্রামের উমেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে সরস্বতী রানীর ১২ বছর আগে বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১০ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সন্তান হওয়ার পর থেকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়। গত কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে একাই বসবাস শুরু করেন। এ দিকে তার স্বামী রঞ্জিত দাস নিজ এলাকায় একটি সেলুন দোকানে কর্মরত আছেন। তাদের সন্তান দাদা-দাদির সাথে থাকতেন। ঈদের চার দিন আগে স্বামী ঢাকায় গিয়ে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বাড়িতে আসেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার স্বামী-স্ত্রী স্বজনদের সাথে দুপুরের খাবার শেষে নিজ ঘরে যায় তারা। বিকেল ৩টার দিকে গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশে থাকা স্বজনরা গিয়ে দেখন তার দেহের বিভিন্ন স্থানে কুপানোর চিহ্ন. আর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন তিনি। তার স্বামী রঞ্জিত দাস দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তপন কুমার বাপ্পি বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে, তবে এখন পযন্ত মামলা হয়নি।’