বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার ঘুরে আসলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল। শনিবার বিকেলে বিষয়টি প্রকাশ পেলে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১২ জুলাই) বিকেলে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সাথে একটি কালো মাইক্রোবাসে করে টুঙ্গীপাড়ায় যান বিএনপির এ নেতা। বঙ্গবন্ধুর মাজারের গেটে সাংবাদিকদের দেখে তিনি সাথে সাথে গাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে নিজেকে লুকিয়ে ফেলেন। তবে সাংবাদিকরাও নাছোরবান্দা। গাড়ির কাছে গিয়ে রোজেলের সাথে দেখা করেন এবং কুশল বিনিময় করেন। সাংবাদিকরা তার সাথে কথা বলে ফিরে আসার সময় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন রোজেল।
জানা যায়, ঈদের ছুটিতে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা রনজিৎ মণ্ডল ও জাকারিয়া জাকিরের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে টুঙ্গীপাড়া যান। আওয়ামী লীগ নেতাদের এ সফরের সঙ্গী হন ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল। বিকেলে তারা পৌঁছান বঙ্গবন্ধুর মাজারে। আওয়ামী লীগ নেতারা মাজারের ভেতরে প্রবেশ করলেও জাহিদ হাসান রোজেল ছিলেন মাজারের গেটে। এ সময় বিএনপির এ নেতা সাংবাদিকদের দেখে গাড়ির ভেতরে নিজেকে আড়ালের চেষ্টা করেছিলেন। রোজেল বিষয়টি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার অনুরোধ করে বলেন, বন্ধুদের সাথে বেড়াতে এসেছি। বন্ধুরা যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে তাই ওরা বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করতে ভেতরে প্রবেশ করেছে। এতে করে এটা খুব বড় কোনো বিষয় নয়।
এদিকে, রোজেলের টুঙ্গীপাড়া সফরের বিষয়টি জানাজানি হলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে।
অনেকেই মন্তব্য করেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার মামাতো ভাই ও ব্যবসায়ীক অংশীদার হওয়ার সুবাদে রোজেলকে হামলা-মামলার শিকার হতে হয়নি।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সদস্য, বৃহত্তর মাসদাইর আওয়ামী লীগের (সাবেক ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ মণ্ডল প্রথমে রোজেলের বঙ্গবন্ধুর মাজারে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, সে (রোজেল) আমাদের সাথে গিয়েছিল। তবে সে গিয়েছিল পদ্মাসেতু দেখতে। সেতু ভ্রমণ শেষে আমরা মাজারে যাই।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার জাকারিয়া জাকির বলেন, রোজেল আমাদের বন্ধু। আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে টুঙ্গিপাড়া গিয়েছিলাম।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেলের কাছে শনিবার রাতে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র ঘুম থেকে উঠেছি, পরে কল দেই।’
জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য রুহুল আমিন সিকদার শনিবার রাতে নয়া দিগন্তকে জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। ঘটনা যদি সত্য হয় তা হলে তদন্ত কমিটি গঠন করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নেবেন।



