পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দি ছিলাম। ঘরে পানি ঢুকে চৌকি তলিয়ে গেছে। থাকার মতো অবস্থা নাই। রান্না করার উপাই নাই। ঘরে খাওয়ার পানি পর্যন্ত নাই। কী করবো কিছু ভেবে না পেয়ে ছেলে মেয়ে নিয়ে রাস্তায় এসে উঠেছি। এখন এখানেই খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। আমাদের দুর্ভোগের কোনো সীমা নাই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বরগুনার তালতলী উপজেলার তেতুল বাড়িয়া এলাকায় বেড়িবাঁধের ধারে আশ্রয় নেয়া আমেনা বেগম। তার মতো অনেকেই এই বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি থাকায় চরম দুর্ভোগে এই অঞ্চলের হাজারো মানুষ। তেতুল বাড়িয়া, নল বুনিয়া, বড় অংকুজান পাড়া খোট্রার চরের বাসিন্দারা নৌকা ও ঘরের উঁচু করা মাচানে বসবাস করলেও খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন এখানকার মানুষগুলো। অনেক পরিবার ঘর-বাড়ি ছেড়ে সড়ক ও উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিলেও কমছে না তাদের ভোগান্তি। শিশু ও গবাদি পশুর খাদ্য সংকট নিয়েও তাদের দুর্ভোগের অন্ত নেই।

এদিকে, তালতলী উপজেলার পয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙনে পানি বন্দি মানুষদের পরিস্থিতি দিন দিন আরো অবনতি হচ্ছে। নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের টেংরা, হাড়িটানা, কোরালিয়া, গহরপুর, নিজলাঠিমারা, রুহিতা, হাজির খাল, বাদুরতলা, চরলাঠিমারা এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে বানভাসি মানুষ। তারা এখন রাতে জোয়ারের সময় জেগে থাকে এবং ভাটার সময় ঘুমিয়ে পরে। খাওয়া দাওয়া সব যেন এখন জোয়ার ভাটায় চলে। এতে প্রায় শতাধিক পুকুর ও ১০টি ঘেরের মাছ ভেসে গেছে।

বেড়িবাঁধের ধারে আশ্রয় নেওয়া শাহিনূর বেগম বলেন, ‘ঘরের সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে। নিকটবর্তী কোনো উঁচু জায়গা না থাকায় রান্না করতে না পারায় খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি।

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোরালিয়া খালের বিভিন্ন এলাকায় রিং বাঁধ না থাকায় লোকালয়ে পানি ঢুকে পরে। জোয়ারের পানির তোড়ে একাধিক স্থাপনা ও বসত ঘরের মালামাল ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি মৎস্য খামারে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়ির ঘরের মধ্যে দুই-তিন ফুট পানি ঢুকে পরেছে।

পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির জানান, কোরালিয়া খালের রিং বাঁধটি দুর্বল হওয়ার পাথরঘাটার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে রিং বাঁধটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসএম সাদিক তানভীর বলেন, পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। আরো ত্রাণ দেয়া হবে।