খুলনার কয়রায় কপোতাক্ষ নদের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সেচ্ছাশ্রমে সংস্কার সম্পন্ন করেছে এলাকাবাসী।
সোমবার কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ায় সকালে ভাটা শুরু হওয়ার পর দুপুরের জোয়ার পর্যন্ত এলাকাবাসী অক্লান্ত পরিশ্রমে রিংবাঁধের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে।
সেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে আসা স্থানীয়রা জানায়, নিজেদের ঘর বাড়ি রক্ষায় বাঁধ সংস্কারের বিকল্প নেই, তাই সবাই মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে এসেছেন তারা।
উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙন যেন কয়রার মানুষের পিছু ছাড়ছে না। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী যখনি কয়রার মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ঠিক তখনই আবার কোনো না কোনো জায়গায় নদী ভাঙন দেখা দেয়।
প্রাথমিকভাবে রিংবাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এর আগে গত রোববার ভোররাতে কপোতাক্ষ নদীর ভাটির টানে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চরামুখা গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (১৪/১) বোল্ডারের বেড়িবাঁধ ভেঙে কপোতাক্ষে বিলীন হয়ে যায়। এলাকাবাসী বাঁধ মেরামতে প্রাণপণ চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা
হয়নি। দুপুরের জোয়ারে অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় সাত থেকে আট হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এতে ভেসে গেছে অন্তত দুই হাজার বিঘা জমির মৎস্য ঘের। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জনপদের
কৃষকদের আমন মৌসুমের জন্য প্রস্তুতকৃত বীজতলা। বসতবাড়ি হারিয়ে অনেকেই আবার বাধ্য হয়ে পরিবার পরিজনদের নিয়ে বসবাস করছে খোলা আকাশের নিচে। কেউ কেউ আবার উঠেছে সাইক্লোন শেল্টারে।
সর্বশেষ এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীসহ উপজেলার সর্বোস্তরের জনগণ ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধটির মেরামত ও বিস্তর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



