নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-কে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত পাঁচজনের তিন দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুুল আলমের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার এসআই মিজানুর রহমান সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক শুনানি শেষে তিন দিন করে মঞ্জুর করেন। আসামিরা হলেনÑ উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের রাসেল মৃধা (৪২), চরমাউলি গ্রামের কবির কাজী (৪০), তালবাড়িয়া গ্রামের সাঈদ শেখ (৫৫), বাটিকাবাড়ি গ্রামের রেজাউল শেখ (৪০) ও বয়রা গ্রামের মাসুম বিল্লাহ (৩২)। গত রোববার রাতে ২৫০ জনকে আসামি করে লোহাগড়া থানায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
এ দিকে গতকাল দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও মন্দির পরিদর্শন করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।
গত ১৫ জুলাই নড়াইলের দিঘলিয়া এলাকার কলেজছাত্র আকাশ সাহার ফেসবুকে মহানবীকে সা:-কে নিয়ে কটূক্তির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ওইদিন জুমার নামাজের পর বিভিন্ন পেশার মানুষের নজরে আসে।
এরপর বিক্ষুব্ধ লোকজন আকাশ সাহার গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে তাদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন। ওইদিন বিকেল থেকে উত্তেজনা আরো বাড়তে থাকে। বিক্ষুব্ধ লোকজন একপর্যায়ে সাহাপাড়ার পাঁচ-ছয়টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এর মধ্যে একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে দুই রুমবিশিষ্ট টিনের শেডের দেয়াল ঘরটি পুড়ে গেছে। এ ছাড়া সাহাপাড়ার মন্দিরের চেয়ার ও সাউন্ডবক্স এবং আখড়াবাড়ি মন্দিরের টিনের চালা ভাঙচুরসহ ইট ছুড়েছে বিক্ষুব্ধরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও করেছে।