বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীদের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপহারসামগ্রী বিতরণ নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ তুলেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। গত সাত বছর ধরে বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মাঝে এ উপহারসামগ্রী বিতরণ না করে আওয়ামী লীগ ঘরোনার পরিবারের মাঝে তা বিতরণ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দলীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদল নেতারা।

বুধবার দুপুরে ঢাকা বিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বাবু। এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাগর সিদ্দিকী, সাজ্জাদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, মোরশেদ আলম, সাজ্জাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মেহদী, ফতুল্লা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লেলিন আহমেদসহ অন্য ছাত্রদল নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে নাজমুল হাসান বাবু অভিযোগ করে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্যাতিত নেতাকর্মীদের প্রতিবছর ঈদকেন্দ্রিক উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া বছরের অন্যান্য সময়েও তিনি আর্থিকভাবে সহায়তা করে থাকেন। কিন্তু তারেক রহমানের দেয়া উপহারসামগ্রী দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের না দিয়ে নারায়ণগঞ্জ যুবদলের সদস্য সচিব ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান রনি আওয়ামী লীগ পরিবারের মাঝে বিতরণ করেন। মশিউর রহমান রনি ফতুল্লা থানা সৈনিক লীগের সভাপতি মরহুম মোখলেসুর রহমানের পরিবারের কাছে গত সাত বছর ধরে তারেক রহমানের উপহারসামগ্রী বিতরণ করছেন। বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীরা এটা মেনে নিতে পারে না।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সৈনিক লীগ নেতা মোখলেসুর রহমান ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার একজন শীর্ষ মাদক কারবারি ও ঝুট সন্ত্রাসী ছিলেন। মাদক ও ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে খুন হন মোখলেসুর রহমান। হত্যা মামলার এজাহারে মোখলেসুর রহমানের স্ত্রী ও মশিউর রহমান রনির বড় বোন মাহমুদা আক্তার তার স্বামীকে বৃহত্তর এনায়েতনগর ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। অথচ রনি দলের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে তারেক রহমানের উপহারসামগ্রী আওয়ামী পরিবারের মাঝে বিতরণ করেন।

ছাত্রদল নেতারা জানান, মশিউর রহমান রনি বিভিন্ন সময় তার বক্তব্যে তার বোনজামাই মোখলেসুর রহমানকে তার কারণে গুম ও হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও তারেক রহমানের কাছ থেকে সহানুভূতি আদায়ের মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। আমরা এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। দলের নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন বলে আমরা আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সৈনিক লীগ সভাপতি মোখলেস হত্যা মামলায় ২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে মশিউর রহমান রনির মামা ফতুল্লা থানার এনায়েতনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মতিউর রহমান প্রধান, ৩ নম্বর সাক্ষী রনির বাবা মোস্তফা কামাল ও ৮ নম্বর সাক্ষী রনির বড় ভাই রুবেল সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়াও এ হত্যার প্রতিবাদে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদলসহ ফতুল্লা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব সংবাদ ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদল নেতারা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান ও মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি ও তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রিয়াদ প্রধান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান রনি আপন মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং একই পরিবারের সদস্য। এবং একই পরিবারে বসবাসরত হওয়ার কারণে মামা ও মামাতো ভাইদের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজপথের বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করে আসছে বলে অভিযোগ তোলেন ছাত্রদল নেতারা।