গাজীপুরে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের কোনাবাড়ি থানা কমিটির আহ্বায়ককে অস্ত্রের মুখে আটকিয়ে রেখে হাত-পা বেঁধে তার বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার গাজীপুর পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি নতুনবাজার এলাকার জিন্নত আলীর ছেলে মো: সোহেল (৩৪) ও একই এলাকার মৃত হীরা লালের ছেলে শ্রী সাজন (২৮)।

পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর দুপুরে অভিনন্দন জানানোর জন্য ফুলের তোড়া নিয়ে মাস্ক পরিহিত চার যুবক মহিলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কোনাবাড়ী থানার আহ্বায়ক হাজেরা বেগমের বাসায় যায়। ডাকাডাকির এক পর্যায়ে ওই নেত্রী বাসার গেট খুলে দেন। এ সময় যুবকরা নিজেদেরকে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের লোক বলে পরিচয় দেয়। তারা করোনায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেত্রী হাজেরা বেগমের অবদান সম্পর্কে সাক্ষাৎকার নিতে এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য এসেছেন বলে জানিয়ে কৌশলে তিন যুবক ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় অপর যুবক গেটের বাইরে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে যুবকরা পিস্তল বের করে ভয় দেখিয়ে হাজেরা বেগমকে আটকিয়ে রেখে তার হাত পা বেঁধে ফেলে। এরপর দুর্বৃত্তরা ঘরের আলমারি থেকে নগদ তিন লাখ টাকা ও সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নেত্রী হাজেরা বেগম কোনাবাড়ী থানায় মামলা করেন।

তিনি জানান, মামলাটি জিএমপি কোনাবাড়ী থানা পুলিশ প্রায় ৭ মাস তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। এর প্রেক্ষাপটে তদন্তাধীন অবস্থায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মাধ্যমে মামলাটি পরবর্তী তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় গাজীপুরের পিবিআইকে। পিবিআই-এর তদন্তকালে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার পর্যন্ত গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে সোহেল ও সাজনকে গ্রেফতার করেন তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো: জাহিদুল হক। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা নিজেদেরকে জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এর প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নেত্রীর বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের প্রায় দেড় বছর পর রহস্য উন্মোচন হয়েছে।