সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সংখ্যালঘু কমিশন গঠন ও সুরক্ষা আইন করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, নড়াইলের দিঘলিয়া সাহাপাড়ায় যে ধরনের হামলা হয়েছে; তাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া যাবে না। পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। সঠিক বিচার না হওয়ায় বার বার এ ধরনের হামলা হচ্ছে। আমরা এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে নড়াইলের দিঘলিয়া ইউনিয়নের সাহাপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও মন্দির পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন ১৪ দলীয় জোট নেতা ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি পরিবারের মধ্যে ১০ হাজার করে টাকা এবং চারটি মন্দিরে ২৫ হাজার করে টাকা অনুদান দেয়া হয়।
এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন-১৪ দলীয় জোট নেতা সাবেক মন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাপার কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তার হোসেন, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউর রশীদ খান রেজা, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা ওয়াবয়দুর রহমান চুন্নু, তরিকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ আলী ফারুকী, গণ-আজাদী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস কে সিকদার, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের নেতা অসিত বরণ রায়, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলুসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া সাহাপাড়ার কলেজছাত্র আকাশ সাহার ফেসবুকে মহানবী সা:কে নিয়ে কটূক্তির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ওই দিন জুমার নামাজের পর বিভিন্ন পেশার মানুষের নজরে আসে। এরপর বিক্ষুব্ধ লোকজন আকাশ সাহার গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে তাদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন। ওই দিন বিকেল থেকে উত্তেজনা আরো বাড়তে থাকে।
বিক্ষুব্ধ লোকজন একপর্যায়ে সাহাপাড়ার পাঁচটি বাড়ি ও দিঘলিয়া বাজারের ছয়টি দোকান ভাঙচুর করেন। এর মধ্যে গোবিন্দা সাহার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে দুই রুম বিশিষ্ট টিনের ঘরটি পুড়ে গেছে। এ ছাড়া সাহাপাড়ার মন্দিরের চেয়ার ও সাউন্ডবক্স এবং আখড়াবাড়ি মন্দিরের টিনের চালা ভাঙচুর ও মহাশ্মশান কালিবাড়ি মন্দির সামান্য ক্ষতি করে বিক্ষুব্ধরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুল পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছে।