কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা স্টেশনের কাছে তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন ও তিনটি ফার্নেস ওয়েল ভর্তি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে একটি ওয়াগনের ৪২ টন ফার্নেস ওয়েল সম্পূর্ণ পড়ে গেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে ডাবল লাইন থাকায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। লাইনচুত ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধারে রেলকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। এ দিকে বগি থেকে পড়া তেলে এলাকার কৃষি জমির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি মো: মনজের আলী জানান, খুলনা থেকে ঈশ^রদী যাওয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি ফার্নেস ওয়েলবাহী ট্রেন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হালসা স্টেশনের পাশে লাইনচ্যুত হয়। এতে একটি ওয়াগনের প্রায় সম্পূর্ণ তেল পড়ে গেছে। এতে এলাকার কৃষি জমির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাকশী ডিভিশনের প্রধান সাইদুল ইসলাম জানান, ওয়াগনের গায়ে ৪২ টন ফার্নেস ওয়েল ধারণক্ষমতা লেখা দেখে ধারণা করা হচ্ছে ওয়াগনে ৪২ টন ফার্নেস ওয়েল ছিল। ঈশ^রদী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে উদ্ধারতৎপরতা চালাচ্ছে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী আশিশ কুমার মণ্ডল। ট্রেনটি আপ লাইনে লাইনচ্যুত হওয়ায় ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে বলেও তিনি জানান। এত ফার্নেস ওয়েল রেললাইন থেকে গড়িয়ে পাশের খাদে ও জমিতে পড়েছে। তবে তেল কৃষি জমিতে যাবে না বলে জানান এই কর্মকর্তা। বেলা ১১টা থেকে উদ্ধারকাজ শুরু হয়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটি বগি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারের কাজ চলছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-১ বীরবল মণ্ডল, পাকশী বিভাগীয় সঙ্কেত-টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এম এম রাজীব বিল্লাহ, পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) আশীষ কুমার মণ্ডলকে সদস্য করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আনোয়ার হোসেন জানান, এ রুটে ডাবল লাইন থাকার কারণে লুপ লাইনে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এজন্য প্রধান রেললাইনটি সচল রয়েছে। ফলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।