নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলা ও নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া মামলার আলামত নানা জটিলতার কারণে শরীয়তপুরের বিভিন্ন থানায় ও মালখানায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব আলামত শরীয়তপুরের বিভিন্ন থানায় ও আদালতের মালখানায় জব্দ রয়েছে।
শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত মোট এক হাজার ৭৭২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। মে মাসে আরো ১২৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। বর্তমানে এই আদালতে তিন হাজার ৪৬৮টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলা ট্রায়ালের চেয়ে নিষ্পত্তি বেশি করতে আদালতের বিচারকরা পুলিশ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রসিকিউটরের সহায়তা কামনা করেছেন ।
সখিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ জানায়, ২০০৯ সালে জিডিমূলে জব্দ হওয়া আলামত থানা মালখানায় এখনো জমা আছে। ২০০৮ সাল থেকে জব্দ করা মোটরসাইকেলগুলো এখনো থানা মালখানায় রয়েছে। ২০১২ সালে জব্দকৃত ডিজেলও রয়েছে। হয়তো এসব এখন বিস্ফোরক হয়ে গেছে। যেসব মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে তার আদেশনামাও রয়েছে আমাদের কাছে।
শরীয়তপুরের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালতের মালখানা জরাজীর্ণ। এখানে অনেক পুরনো আলামত রয়েছে। জব্দ করা অনেক টাকা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নষ্ট টাকাগুলো বদল করে এনেছি। অনেক আলামত আছে যা মালখানায় রাখা যায় না। যেমন মোটরসাইকেল, অটোবাইক, নছিমন ইত্যাদি। এগুলো মালখানার বাইরে খোলা জায়গায় রাখা হয়েছে। রোদে বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। আলামত হেফাজতের জন্য একটা নতুন মালখানার প্রয়োজন।
শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মো: সালেহুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের কলামগুলো স্পষ্ট অক্ষরে বা প্রয়োজনে টাইপ করে পূরণ করা উচিত। এই ধরনের মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যায়। তিনি আরো বলেন, নিষ্পত্তি হওয়া মামলার বেশ কিছু নথি আদালতে এসেছে। যার আলামত ধ্বংস করা যাবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তা ধ্বংস করা সম্ভব। যেসব আলামত ধ্বংস করা সম্ভব বাছাই করে তার ধ্বংস কার্যক্রম চলমান রাখা উচিত।