কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গণেশ বাঁশফোড় (৮০) নামে এক বৃদ্ধ পেনশনের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় শোকে মারা গেছেন। গতকাল সোনালী ব্যাংক কুমারখালী উপজেলা শাখায় এ ঘটনা ঘটে। ওই বৃদ্ধ পৌরসভার শেরকান্দির সুইপারপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিছন্নতাকর্মী ছিলেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে এবং ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ থেকে জানা যায়, সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে সোনালী ব্যাংকের ওই শাখায় পেনশনের টাকা তুলতে গিয়েছিলেন গণেশ বাঁশফোড়। এসময় একটি চক্র তার পিছু নেয়। এরপর ১০টা ২৬ মিনিটের দিকে ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকের গলি দিয়ে বের হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় চক্রের একজন তার কাছে যায় এবং তার জামার পেছনে কিছু একটা লাগিয়ে দেয়। এরপর ওই বৃদ্ধ ব্যাংকের প্রধান প্রবেশ পথের সামনে থাকা টিউবওয়েলের কাছে যান। তার পিছে পিছে প্রতারক চক্রের একজন সেখানে যায়। প্রায় পাঁচ মিনিট পর গণেশ খালি গায়ে টিউবওয়েলের কাছ থেকে বের হয়ে পুনরায় ব্যাংকের দিকে ফিরে যান। এ সময় প্রতারক চক্রের ছয়জনকে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়। আরো জানা গেছে, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে গণেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কাছে যান এবং তার ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের কথা বলতে বলতে অসুস্থ হয়ে ফ্লোরে পড়ে যান। এরপর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখানকার চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে দ্বিতীয় তলায় পাঠান। দ্বিতীয় তলায় উঠতে গিয়ে সিঁড়িতেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা: মশিউল আরেফিন জানান, ব্যাংকে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্বিতীয় তলায় উঠতে গিয়ে সিঁড়িতে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্ত করা হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড উপজেলা শাখার জ্যৈষ্ঠ ব্যবস্থাপক প্রসাদ বিশ্বাস জানান, টাকা ছিনতাইয়ের পর ওই বৃদ্ধ বিষয়টি আমাকে জানাতে এসেছিলেন। এ কথা বলতে বলতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং কিছু সময় পরে মারা যান।
কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, টাকা ছিনতাইয়ের কারণে স্ট্রোক করে ওই বৃদ্ধ মারা যেতে পারেন। তবে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।