প্রায় আড়াই বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী অলিম্পিয়া মতি মসজিদ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকার মুসল্লিরা। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মসজিদে বিটিএমসির অবৈধ হস্তক্ষেপ ও কর্তৃত্ব বন্ধের দাবি জানান তারা।
মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আবুল হাসেম লিখিত বক্তব্যে জানান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিল প্রায় ২১ বছর আগে শ্রমিক মালিকানায় ন্যস্ত করা হয়। এর পর মিলের উদ্বৃত্ত জমিও প্লট আকারে শিল্পোদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রি করে দেয় প্রাইভেটাইজেশন কমিশন।
তবে সরকারের বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতিমালার আওতায় মিলটির ঐতিহ্যবাহী অলিম্পিয়া মতি মসজিদ এলাকার মুসল্লিদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। কিন্তু মিলের যাবতীয় সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর করে বিটিএমসি বিদায় নিলেও মসজিদটি পরিচালনার জন্য কোনো ব্যবস্থা রেখে যায়নি। বিটিএমসির আমলে অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিল থেকে ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেমের বেতনসহ মসজিদ পরিচালনার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা হতো। বর্তমানে প্রতি শুক্রবার মুসল্লিদের নিজস্ব উদ্যোগে জুমা জামাতের সংগৃহীত অনুদান দিয়ে কোনো মতে মসজিদটি চালু রাখা হয়েছে। অপর দিকে মালিকানা স্বত্ব ও কর্তৃত্ব বিলুপ্ত হওয়ার পরও মসজিদের সাবেক কর্তৃপক্ষ বিটিএমসি এখনো অবৈধভাবে মসজিদ মার্কেটের ভাড়া উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিরাষ্ট্রীয়করণ সংক্রান্তে প্রকাশিত গেজেট- নোটিফিকেশন প্রদর্শন করে কাউন্সিলর আবুল হাসেম দাবি করে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত মিল শ্রমিক মালিকানায় হস্তান্তর নীতিমালা এবং বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতিমালা অনুযায়ী হস্তান্তরিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের মসজিদ বা মসজিদের সম্পত্তিতে বিটিএমসির মালিকানা স্বত্ব ও কর্তৃত্ব একুশ বছর আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। অথচ বিটিএমসি এ নীতিমালার কোনো তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অবৈধ ও এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে এখনো মসজিদ মার্কেটের ভাড়া উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে একমাত্র আয়ের উৎসটি বন্ধ থাকায় আর্থিক সঙ্কটে টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সঠিক পরিচালনার অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় মসজিদটি রক্ষায় বিটিএমসির অন্যায় ও অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান। এ ব্যাপারে তারা সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এলাকার বৃহত্তর এ মসজিদে জুমার জামাতে অংশ নেয়া মুসল্লিরাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।



