নারায়ণগঞ্জে ২২ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারো খুনের শিকার হয়েছেন এক তরুণ। ফতুল্লার দেওভোগ এলাকা শনিবার রাত ১০টার দিকে যুবক মেহেদী হাসান খুনের পর রোববার রাত ৮টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে সজীব (১৭) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সজীব শহরের চাষাঢ়া রামবাবুর পুকুরপাড়ের ছোট মসজিদ এলাকার কামাল মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক আইনজীবীর সহকারী সিদ্দিকুর রহমান জানান, আদালতপাড়া থেকে কাজ শেষে ফেরার পথে এসপির কার্যালয়ের পাশে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে রক্তাক্ত অবস্থায় সজীবকে পড়ে থাকতে দেখতে পান। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ব্যাটারিচালিত বাহন মিশুকে করে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সজীবকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ছেলেটি মারা গেছে। তার বুকে জখম রয়েছে।
নিহত সজীবের বড় বোন শাহীনুর বলেন, তিন ভাইবোনের মধ্যে ছোট সজীব। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে বেকার। তাদের বাবা ভাঙারির কাজ করেন।
‘রাত ৮টার কিছুক্ষণ আগে সজীব বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বলে, বাসার সামনে থেইকা আসতাছি। কার লগে গেছে জানি না। রাত পৌনে এগারোটার দিকে সজীবের খবর পাই’-- কাঁদতে কাঁদতে বলেন সজীবের বোন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) নাজমুল হাসান বলেন, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয়েছে। এটি ছিনতাই নাকি আগের দ্বন্দ্ব সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
ঘটনাস্থলের পাশে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় ছাড়াও জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয় রয়েছে। পাশেই চাঁদমারী বস্তি এলাকা।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে চাঁদমারী মাউরাপট্টি এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটে। এর ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে লিংক রোডে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। দুই ঘটনার যোগসূত্র আছে কিনা খতিয়ে দেখছেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা নাজমুল হাসান।



