টাঙ্গাইল পৌরসভার বিশ্বাসবেতকা ধোপাপাড়া এলাকায় স্বামীকে খুন করে আত্মগোপনে থাকা স্ত্রী হৃদয় বানুকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

সোমবার রাতে হবিগঞ্জের রাজাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান এ নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন।

র‌্যাব কমান্ডার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩ এবং শায়েস্তাগঞ্জ র‌্যাব-৯, সিপিসি-১ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে হৃদয় বানুকে গ্রেফতকার করে। গ্রেফতারের পর স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন হৃদয় বানু। তিনি র‌্যাবকে জানান, তিনি ও তার স্বামী আবু সাঈদ সেন্টু সৌদি আরবে থাকতেন। সেখানে তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয় এবং তারা বিয়ে করেন। বিয়ের তিন-চার মাস পর হৃদয় বানু গর্ভবতী হন। সাত মাস পর আবু সাঈদ তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে সৌদিআরব থেকে গাজীপুরের টঙ্গীতে তার বড়ভাই খোরশেদের বাসায় পাঠিয়ে দেন। হৃদয় বানু দেশে আসার এক মাস পরেই আবু সাঈদ দেশে ফিরে আসেন। টঙ্গীতে থাকাকালীন হৃদয় বানু একটি কন্যা সন্তান (রেশমী) প্রসব করেন। গত দুই মাস আগে আবু সাঈদ তার স্ত্রী হৃদয় বানুকে নিয়ে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাসবেতকা ধোপাপাড়া এলাকায় একটি টিনসেড বাসা ভাড়া নেন। গত ২৭ জুলাই রাতে আবু সাঈদের সাথে তার ঝগড়া হয়। এর জের ধরে ওই রাতেই হৃদয় বানু চাকু দিয়ে তার ঘুমন্ত স্বামীর পেটে আঘাত করে হত্যার পর শিশু কন্যাকে লাশের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরদিন সকালে পুলিশ আবু সাঈদের লাশ উদ্ধার করে।

উল্লেখ্য, আবু সাঈদ ছিলেন হৃদয় বানুর দ্বিতীয় স্বামী। অন্যদিকে আবু সাঈদও প্রথম স্ত্রীকে রেখে গোপনে হৃদয় বানুকে বিয়ে করেছিলেন। হত্যার ঘটনায় আবু সাঈদের প্রথম স্ত্রী নাহিদা খানম টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। নিহত আবু সাঈদ (৪৩) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার উত্তর তারুটিয়া গ্রামের মৃত ওমর আলী খানের ছেলে।