জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ফোর লেন সড়কের ঢাকাগামী লেনের ভালুকা অংশের অবস্থা একেবারে বেহাল। ভেঙেচুরে লণ্ডভণ্ড। সড়কের বাসস্ট্যান্ড আরসিসি ঢালাইয়ের শেষ প্রান্ত থেকে খিরু ব্রিজের দক্ষিণপাড়ের কাঁঠালী পর্যন্ত অংশে এমন বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে যে সড়কটি যান চলাচল পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই চলছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকবাহী গাড়িসহ সব যানবাহনকে।
ছোট বড় খানাখন্দ মেরামত করতে গত এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড থেকে খানবাড়ি পর্যন্ত মহাসড়কে ১৮৬ মিটার সড়ক ভেঙে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। ওই সময় আরো প্রায় ৫০০ মিটার সড়কের খানাখন্দগুলো ইট ও বালিমাটি দিয়ে নামমাত্র মেরামত করা হয়। কিন্তু এক মাস যেতে না যেতেই খানাখন্দগুলোর ইট বালু সরে গিয়ে আরো বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কের ওই অংশটুকু যান চলাচলের জন্য এখন প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে দূরপাল্লার যানবাহন ও স্থানীয় পরিবহনগুলো। এতে চালক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও ওই লেনের ভালুকা ব্রিজের দক্ষিণপাড় থেকে মাস্টারবাড়ি পর্যন্ত সড়কের ঢালাই উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
পথচারী ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১১ বছর আগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্য দিয়ে ভালুকা অংশে ফোর লেনের কাজটি করা হয়। যে কারণে কয়েক বছরেই রাস্তাটি নানান খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। সড়কের কোনো কোনো স্থানে এমন বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে যে যানচলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাঝে মধ্যে ইট ও বালুমাটি দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করার নামে শুধু লোকদেখানো সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই মাছের গাড়ির পানিতেই সড়ক ভেসে গিয়ে আবার আগের চেয়েও খারাপ অবস্থা ধারণ করেছে।
আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন চালক জানান, ছোট বড় গর্তের কারণে এ সড়ক পথে গাড়ি ধীরগতিতে চালাতে হয়। খানাখন্দের কারণে একদিকে যেমন গাড়ির যেমন বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর, আরামপ্রদ, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ৯০২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। পরবর্তীতে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যায় এবং প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।
ময়মনসিংহ সড়ক উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, ফোর লেন সড়কের ভালুকা অংশের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিলেয়েবল বিল্ডার্স লিমিটেড ময়মনসিংহের সিকারীকান্দায় যে কাজটির কার্যাদেশ পেয়েছে, তা থেকে রাস্তা কেটে এনে ভালুকা অংশের পূর্বপাশে ১৮৬ মিটার সংস্কার করানো হয়। আর যেসব স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল, তা ইট বালু দিয়ে রিপেয়ারিং করা হয়। বর্তমানে আবারো খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিবাদল শেষ হলে পুনরায় রিপেয়ারিংয়ের কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।