নাটোরের সদরের হয়বতপুর গোলাম ইয়াছিনিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার শিক্ষককে পেটানোর মামলায় বুধবার মধ্যরাতেই প্রধান অভিযুক্ত সদরের লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা নুরুজ্জামান কালুকে আটক করেছে নাটোর থানা পুলিশ।
বুধবার বিকেলে চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালু ও তার ছেলে জয়সহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে নাটোর থানায় মামলা করেন আহত শিক্ষক জাফর বরকত।
চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালু গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাছিম আহমেদ। এদিকে হামলার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের আটকের দাবিতে মাদরাসায় মানববন্ধন শুরু করলেও তা হতে দেয়নি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, হয়বতপুর গোলাম ইয়াছিনিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার কমিটির সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে দ্বন্দ্বে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাদরাসায় যান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কালুর ছোট ছেলে জয়সহ তার ১২-১৫ জন কর্মী। মাদরাসায় গিয়ে তারা অধ্যক্ষকে খুঁজতে থাকেন এবং বিভিন্ন ক্লাশ রুমে ঢুকে ছাত্রছাত্রী শিক্ষকদের ভিডিও করতে থাকেন। এ সময় মাদরাসার ইংরেজি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক জাফর বরকত তাদের সাথে অধ্যক্ষের অবর্তমানে তর্কবির্তকে লিপ্ত হলে মাদরাসা মাঠেই তাকে প্রকাশ্যে মারপিট শুরু করে চেয়ারম্যানের কর্মীরা। এক পর্যায়ে মারতে মারতে স্থানীয় লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে তাকে আটকে বেধড়ক মারপিট করা হয়।
আহত জাফর বরকত অভিযোগ করে বলেন, এ সময় চেয়ারম্যান নিজেই চৌকিদারের লাঠি নিয়ে তাকে মারপিট করেন। মাদরাসার অন্য শিক্ষক ও ছাত্ররা ইউনিয়ন পরিষদে তাকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে ৯৯৯ জরুরি হটলাইনে খবর দিলে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা নিজে পুলিশসহ গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এদিকে শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারপিটের অভিযোগে অভিযুক্ত সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় হয়বতপুর গোলাম ইয়াছিনিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মাদরাসার ভেতরে মানববন্ধন শুরু করলেও পুলিশের বাঁধায় মানববন্ধন করতে পারেনি। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এর আগে সকাল থেকে স্থানীয় বাজার ও মাদরাসায় নাটোরের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার মোহসিন ও নাটোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছিম আহমেদের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, মাদরাসার সকল ক্লাশও চলতে দেখা গেছে।



