ভাই, ওষুধের দাম একটু কম নিয়েনে (নিবেন)। ৬০ টাকার ওষুধে দোকানদার ৫৫ টাকা রাখলো। তারপরও ক্রেতা বলল, ভাই আরেকটু কম রাখা যায় না। না ভাই ৬০ টাকার ওষুধে আর কত লাভ হয়। ক্রেতা টিস্যু প্যাকের ভাঁজ থেকে ২০ টাকার তিনটি নোট বের করে দেন দোকানিকে। তাও আবার ছেঁড়া।

কথাগুলো ওষুধ কেনার জন্য ফার্মেসিতে আসা আবদুস সালাম নামের এক অসহায় বাবার। তিনি নিজে গুরুতর অসুস্থ। একইসাথে অসুস্থ তার ছোট্ট শিশুমেয়েটিও।

গত বুধবার দিন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদরস্থ সুবিদখালী বাজারের একটি ওষুধের ফার্মেসিতে এসে সাত মাসের মেয়ে মাহিনুরের ওষুধ কেনার জন্য এমন আকুতি করে এ কথাগুলো বলেছিলেন দোকানিকে। বর্তমানে হাতে টাকা না থাকায় বাবা-মেয়ের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধের পথে।

আবদুস সালাম উপজেলার উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের তার পরিবার নিয়ে বাস করেন। তার ঘরে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

গত পাঁচ বছর আগে পাইলসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে লাঠিতে ভর করে চলতে হচ্ছে সালামকে। বড় মেয়ে ইয়ানুর মাদরাসায় পড়াশুনা করে। ছেলে শাহাদাত এখনো ছোট। সাত মাসের শিশু সন্তান মাহিনুর মির্জাগঞ্জ হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছে। শিশু মাহিনুরের হাতে ক্যানোলা পড়ানো। কথা হয় অসহায় আবদুস সালামের সাথে।

তিনি বলেন, উপজেলার উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামে কোনোভাবে বাস করছি। নিজে কোনো কাজ করতে পারি না। নানা রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে। পাইলসের কারণে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এর জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। শরীর থেকে রক্ত পড়ে যাওয়ায় হাঁটা-চলাও দায় হয়ে পড়েছে। মেয়ের পড়াশুনা, স্ত্রী ও মেয়েটার চিকিৎসা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে আমাকে চিকিৎসার জন্য কিছু ওষুধ দেয়ার ব্যবস্থা করে দিলেও মির্জাগঞ্জ হাসপাতালে পাইলসের ভালো চিকিৎসা হয় না। কারণ ওষুধ পেতে হলে এখানে থাকতে হবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল কিংবা ঢাকায় চিকিৎসা দরকার। তাই এখান থেকেও আর ওষুধ নেয়া হয়নি।

সালামের স্ত্রী বলেন, অনেক কষ্ট করে মেয়েটাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছি। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা দিতে পারছি না। আমার স্বামী কোনো কাজ করতে না পারায় সংসারে অভাব-অনাটন বেড়ে যাচ্ছে। পাইলসের কারণে শরীর থেকে রক্ত বের হলে আর চেক দেয়া যায় না। রক্ত স্বল্পতায় চলাফেরা দায় হয়ে পড়েছে। কাজ তো দূরের কথা। আমার স্বামী ভালো থাকলে হয়তো কাজ করে সংসারের ভরণ-পোষণ ও মেয়েটাকে পড়াশুনা করাতে পারতো। কিন্তু সবকিছু এখন বন্ধের পথে। ভালো খাবার খেলে হয়তো শরীরের রক্ত পূরণ হতো। যেখানে কাজ করতেই পারেন না, সেখানে আবার ভালো খাবার।

এমন দুঃখের কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন অসহায় সালামের স্ত্রী। সব মিলিয়ে অভাব-অনটনের সংসারে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাড়িয়েছে তার অসুস্থতা। অসুস্থ-অসহায় আবদুস সালামের চিকিৎসা এখন অর্থাভাবে বন্ধের পথে।

আবদুস সালামের পাইলস আক্রান্ত স্থানে দ্রুত অপারেশন করা প্রয়োজন। কিন্তু এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। তাই সমাজের বিত্তবানদের প্রতি চিকিৎসার সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য আবেদন (নগদ নম্বর ০১৭৮০৩২৬২৫৬) জানিয়েছেন আবদুস সালাম ও তার স্ত্রী।