টাঙ্গাইলে এক কলেজছাত্রীকে সাড়ে ছয় মাস আটকে রেখে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো একবছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন। দণ্ডিত আসামি হলো টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার রতনপুর (কাশেম বাজার) গ্রামের মৃত দরবেশ আলীর ছেলে বাদল মিয়া (৪০)। বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস নয়া দিগন্তকে বলেন, একই এলাকার ভিকটিম কলেজছাত্রীর সাথে ফেসবুকে টাঙ্গাইল শহরের বিবেকানন্দ কলেজের ছাত্র লাবন মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বাদল মিয়া ওই কলেজছাত্রীর চাচা। ওই ছাত্রী প্রেমের বিষয়টি বাদল মিয়াকে জানালে তিনি তাকে তার প্রেমিকের সাথে বিয়ে দেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নিজের একটি পরিত্যক্ত ঘরে সাড়ে ছয় মাস আটকে রেখে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করেন। ঘরের জানালার কাছে গিয়ে মাঠে খেলতে থাকা ছেলেদের দেখে চিৎকার করলে ছেলেরা বাড়িতে খবর দেয়। বাড়ির লোকজন স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের তালা ভেঙে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সখিপুর উজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই সখিপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ বাদলকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে তিনি ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দেন। দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়ে গা ঢাকা দেন তিনি। ২০১৮ সালের ১ মে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ঘটনাটি টাঙ্গাইলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।