গাজীপুরের কালীগঞ্জে জুট মিলের শ্রমিক বিল্লাল হোসেন ওরফে বিলুকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুল আজিজকে (৫৫) ২৭ বছর পর গ্রেফতার করেছে র্যাব-১-এর সদস্যরা। সোমবার ভোররাত আড়াইটায় নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের মৈশাদি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিলুকে হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই জালাল উদ্দিন বাদি হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ১৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর থকেই আসামি আব্দুল আজিজ জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে নরসিংদীর শিবপুরের মৈশাদি গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে থেকে কাঁচামালের ব্যবসা শুরু করে।
হত্যার শিকার বিল্লাল হোসেন ওরফে বিলু (৩৫) গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী ওরফে কিতাব আলীর ছেলে। আসামি আব্দুল আজিজ একই উপজেলার বাহাদুরসাদী গ্রামের মৃত আলফাজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে। তারা উপজেলার খালপাড়া এলাকার ন্যাশনাল জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত।
র্যাব কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নোমান আহমেদ জানান, ১৯৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর সকালে আসামি রুস্তম আলী লাউ চুরির বিষয়ে কথা আছে বলে ভিকটিম বিলুকে ডেকে নিয়ে আসে। এ সময় অন্যান্য আসামি ওই জায়গায় বিলুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি, দা ও কুড়াল নিয়ে ওঁৎ পেতে ছিল। একপর্যায়ে আসামি তার হাতে থাকা কুড়াল দিয়ে বিলুর মাথার পেছনে আঘাত করে। এ সময় অপর আসামি ফালান কুড়াল দিয়ে বিলুর বুকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে এবং আসামি আব্দুল আজিজ ছুরি দিয়ে গলা কেটে বিলুকে হত্যা করে। এ ঘটনার পর থেকে আসামি আব্দুল আজিজ দীর্ঘ ২৭ বছর নাম-পরিচয় গোপন করে নরসিংদীর শিবপুরের মৈশাদি গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে পলাতক ছিল। এ ঘটনায় জড়িত আট আসামি জেলহাজতে রয়েছে। অপর তিন আসামি ফালান, আলম এবং মানিক পলাতক রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১ উত্তরা ও আশপাশের পূর্বাচল, রূপগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জের র্যাব সদস্যদের সহযোগিতায় রোববার মধ্যরাত আড়াইটায় নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের মৈশাদি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে।