ইলিশের ভরা মৌসুমেও ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের মাছঘাটে ইলিশের আমদানি কম। এতে করে বেড়ে গেছে মাছের চাহিদা ও দাম। পাশাপাশি চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনার ৭০ কিলোমিটার জুড়ে ইলিশ পাচ্ছে না জেলেরা। যাও কিছু মাছ পাওয়া যায় তাতে তাদের জ্বালানি তেলের খরচ পুষিয়ে উঠতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর এই তিন মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। মৌসুম ঘিরে এ সময় শহরের প্রধান মৎস্যকেন্দ্র চাঁদপুর মাছঘাট থাকে সরগরম। আগস্টের প্রথম দিকে কিছু মাছ এলেও বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা নদী কিংবা সাগরে যেতে না পারায় চাঁদপুর মাছঘাটে তেমন ইলিশ আসছে না। তবে এ মাসের শেষের দিকে ইলিশের কিছুটা আমদানি বাড়বে বলে মনে করেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

শনিবার সরেজমিনে চাঁদপুর মাছঘাটে দেখা যায়, সকালে ঘাটে ইলিশভর্তি ট্রলার আসতে দেখা গেছে। কিন্তু দুপুরের পর থেকে ইলিশের আমদানি না থাকায় ঘাটে মৎস্য ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১২০০ টাকায়। এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায়। তবে সাগর উপকূলীয় এলাকা থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ইলিশের দাম অনেক বেশি বলে জানান
আড়তদাররা।

মৎস্য ব্যবসায়ী আকাশ মোল্লা জানান, চাঁদপুরের লোকাল ইলিশ মাছ ও সাগরের মাছ কম আসায় মাছে দাম একটু বেশি। চাহিদা অনুযায়ী মাছ কম আসায় মাছের দাম একটু বেশি যাচ্ছে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, এক সপ্তাহ ধরে সাগরে মোহনায় বাতাস, বৈরী আবহাওয়া কারণে জেলেরা মাছ ধরতে পারেনি। আশা করি ২-১ দিনের মধ্যে জেলেরা মাছ ধরতে পারবে। তাই আগামী ৬-৭ দিনের মধ্যে ইলিশের আমদানি বাড়বে। বর্তমানে হাতিয়া, নোয়াখালী সাগরের উপকূলীয় এলাকা থেকে কিছু মাছ চাঁদপুর মাছঘাটে আসে। সেই মাছ চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন।

তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরে ষাটনল থেকে চরভৈরবী ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ নেই। জেলেরা আশা নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যায়, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় তারা হতাশা হয়ে ফিরে আসছে।