পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রথমবারের মতো কন্দ জাতীয় ফসল মাদ্রাজী ওলকচুর চাষ শুরু করা হয়েছে। নিরাপদ ফসল উৎপাদন নিশ্চিত ও বাজারজাতকরণের পাশাপাশি এর সঠিক চাষবাদ পদ্ধতি কৃষকদের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।
কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ছৈলাবুনিয়া গ্রামের কৃষাণী অনিমা রানী প্রথম কন্দ জাতীয় ফসলের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তার এই সফলতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। আর এ ফসল চাষে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলার কৃষি বিভাগ।
কৃষক পরিবারের জন্ম হলেও এ পেশাটাকে তিনি ছোট করে দেখেনি। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবারকে আজ স্বাবলম্বী করে তুলতে পেরেছেন। উপজেলায় ৫ জন কৃষকের মাধ্যমে মাদ্রাজী ওলকচু চাষের প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।
কৃষাণী অনিমা রানী বলেন, জমি চাষ করে যে পরিমাণে ধান পেতাম, তা দিয়ে সংসারে খরচ উঠতো না। প্রথমে ৮ শতাংশ জমিতে লাউ, করলা, বরবটি ও শসাসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের যাত্রা শুরু করি। এবার এই প্রথম উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ১০ শতাংশ জমিতে কন্দ জাতীয় মাদ্রাজী ওলকচুর চাষ করেছি। এতে আমার খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকার মতো। আর অন্যান্য সব খরচ ও কন্দাল ফসলের বীজ কৃষি অফিস থেকে দেয়া হয়েছে। আর কয়েকদিন পরে ফসল তুলে বিক্রি করতে পারবো। তিনি বলেন, আশা করছি ভালোভাবে ফসল তুলে বিক্রি করতে পারলে ৫০ হাজার টাকারও বেশি আয় হবে।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার কন্দাল চাষী উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাবুল হাওলাদার, ছৈলাবুনিয়া গ্রামের রব হাওলাদার ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, কন্দাল জাতীয় ওলকচু আগে চাষ করিনি, এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত কন্দালের ক্ষেত দেখতে ভালই লাগছে, ফলন ভাল হবে বলে আমরা আশাবাদী। এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় কন্দাল ফসল চাষে খরচ খুব সীমিত, ঝামেলাও কম। এবার লাভ পেলে আগামিতে আমিসহ অন্যান্য কৃষকও কন্দাল জাতীয় কচুর চাষ করবে বলে আমার বিশ্বাস।
সূত্রে জানা যায়, ধান ও গমের পরেই দেশের কৃষিতে কন্দাল ফসলের অবস্থান। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: আরাফাত হোসেন বলেন, কন্দ জাতীয় মাদ্রাজী ওলকচুতে উপকারী আশ ছাড়াও শর্করা ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবন রয়েছে। কচু জাতীয় ফসলের উৎপাদন খরচ কম এবং বসত বাড়ির আশাপাশে কম উর্বর জায়গায় এর চাষ করা যায়। দেশে কন্দ জাতীয় ফসলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে কিন্তু উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এ বিষয়টি সামনে রেখে সরকার দেশে কন্দাল ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা এই ফসল উৎপাদন করতে কৃষকের খরচ পরে কম, লাভ বেশি। কারণ এসব কচু জাতীয় ফসল বাজারে আসে এমন একটা সময়ে যখন অন্যান্য সবজি তেমন একটা থাকে না ফলে সবাই কিনতে পারেন। এটি নিরাপদ ফসল কারণ এর চাষে বালাইনাশকের ব্যবহার নেই বললে চলে। মির্জাগঞ্জে এই প্রকল্পের মাধ্যমে এ বছর মাদ্রাজী ওলকচু ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি কচু, লতিকচু, মুখীকচু, গোল আলু, মিষ্টি আলু, গাছ আলুসহ নানা কন্দ জাতীয় ফসলের উৎপাদন করতে প্রদর্শনী স্থাপন, কৃষাণ-কৃষাণী প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে কন্দাল ফসলের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।



