টাঙ্গাইলে বহুরূপী এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এই প্রতারকের নাম মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে রাতুল (৪১)। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা থানার রান্দিয়া ধলিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। গত শনিবার রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ নিয়ে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন টাঙ্গাইল র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, এই প্রতারক কিভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করতেন; গ্রেফতার হওয়ার পর সব স্বীকার করেছেন। প্রথমে ভালো সম্পর্ক; তারপর প্রতারণার ফাঁদে ফেলতেন তিনি।
র্যাব কমান্ডার বলেন, প্রতারক মোস্তাফিজুর রহমান কখনো নিজেকে র্যাব-১২ এর সিও আবার কখনো পুলিশের এএসপি এবং নিজেকে ৩২তম বিসিএস ক্যাডার বলে পরিচয় দিতেন। এ ছাড়া বলতেন, দুদকের চেয়ারম্যান তার সম্পর্কে বেয়াই, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করেছেন, টাঙ্গাইলের সাবালিয়াতে তার একটি সাত তলাবিশিষ্ট অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এবং বিদেশে তার বড় বড় আত্মীয়স্বজন রয়েছে। এভাবে বিভিন্ন লোকজনকে প্রলোভিত করে তাদেরকে কখনো দুদকে চাকরি দেয়ার কথা বলে, কখনো মোটরসাইকেল নিলামে কিনে দেয়ার কথা বলে, কখনো বিদেশে লোক নেয়ার কথা বলে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে এবং সেই সূত্রে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বাড়ি দেয়ার কথা বলে, কখনো কাস্টমসের মাধ্যমে কম দামে মোটরসাইকেল এনে দেয়ার কথা বলে, কখনো র্যাব-১ থেকে রিকন্ডিশন গাড়ি কম দামে কিনে দেয়ার কথা বলে, কখনো প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে কাজ দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করেছেন। তার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে।



