গাজীপুরেরে টঙ্গী আউচপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) মিডিয়া বিভাগ।
রোববার কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানে গেলে তাদের ওপর এ হামলা হয়।
জানা যায়, রোববার রাতে টঙ্গীতে কিশোর গ্যাংয়ের ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্য এলাকায় অস্ত্রসহ মহড়া ও ককটেল ফুটিয়ে আকস্মিক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় তারা সুমন মাহমুদ তানন নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করে করে। তাদের হামলায় আরো একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়।
এ ঘটনায় রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্যাং লিডারসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী রয়েছে। গ্যাং লিডারকে ছিনিয়ে নিতে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
গ্রেফতাররা হলেন টঙ্গীর আউচপাড়া সুরতরঙ্গ রোডের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩৮), জামালপুরের বকশিগঞ্জ থানার নীলক্ষ্যা গ্রামের ও বর্তমানে এরশাদনগর এলাকার বাসিন্দা গেদু মিয়ার ছেলে মোবারক হোসেন (২২), শেরপুরের শ্রীবর্দী থানার দয়েরপাড় গ্রামের ও বর্তমানে টঙ্গী দত্তপাড়ার জহির মার্কেটের আক্কাস মৃধার বাড়ির ভাড়াটিয়া আইয়ুব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাহাঙ্গীর (২০), শেরপুর জেলার নকলা থানার চন্দ্রকোনা গ্রামের ও বর্তমানে দত্তপাড়া সিনিয়র মাদরাসা রোডের ইউসুফ পাটোয়ারীর বাড়ির ভাড়াটিয়া স্বপনের ছেলে সাকিব (২২)।
জিএমপি সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি ও মিডিয়া) আবু সায়েম নয়ন জানান, রোববার রাতে কিশোর গ্যাং সদস্যদের তাণ্ডবের খবর পেয়ে জিএমপি দক্ষিণের উপ-কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশের নেতৃত্বে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার চারটি টিম ও সহকারী পুলিশ কমিশনারের (ডিবি) নেতৃত্বে দুটি টিম টঙ্গী পশ্চিম ও পূর্ব থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের দ্বিতীয় কমান্ডার আসামি মোবারককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন কসাইবাড়ি রেলগেটে সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার করতে গেলে সহযোগীরা মোবারককে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর আক্রমন চালায়। এতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে সহযোগী আসামিরা পালিয়ে যায়। মোবারককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি ছোরা ও একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়।
এলাকাবাসী জানান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাং ও পেশাদার মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীরা টঙ্গীর শান্তিপূর্ণ মডেল এলাকা খ্যাত আউচপাড়াকে অশান্ত করে তুলেছে। নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থানা পুলিশের সাথেও তারা সখ্যতা গড়ে তুলেছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এক সময় পুলিশের কনস্টেবল দেখলে দৌড়ে পালাত এমন সন্ত্রাসী এখন সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতার প্রশ্রয়ে থানার কর্মকর্তাকেও ভাই বলে সম্বোধন করে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শাহ আলম বলেন, রোববার রাতের হত্যাকাণ্ডে নিহত সুমনের পিতা ফজলুল হক পাটোয়ারী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৬ জনকে এজাহার নামীয় ও আরো অজ্ঞাতপরিচিত আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার রাতেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।



