রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে (১৯) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার গ্রেফতার আসামিদেরকে রাজবাড়ীর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে তাদের অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- গোয়ালন্দ পৌরসভার আড়তপট্টি এলাকার লালমিয়া বেপারির ছেলে মো: সজল বেপারি ওরফে শরিফ বেপারি (২৮), ঘোষপট্টি এলাকার আলতাফ ডাক্তারের ছেলে মিঠু (৩৮) ও উত্তর উজানচর নতুন পাড়ার বাসিন্দা মৃত তোতা শেখের ছেলে মো: আলামিন শেখ (২৮)। এ ছাড়াও মামলায় এজাহারভুক্ত একজন ও দু’জন অজ্ঞাত আসামি পলাতক রয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তার বাবা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার প্রতিবন্ধী মেয়ে ঘরে নেই। কাছাকাছি খোঁজাখুঁজির পর রাত ২টার দিকে তারা তরুণীকে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ বাজার হতে দৌলতদিয়া ঘাটগামী রেল ব্রিজের ঢালে খুঁজে পান। এ সময় তাদের উপস্থিতি দেখে সেখান থেকে কয়েকজন লোক দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা তরুণীকে সেখান থেকে উলঙ্গ অবস্থায় উদ্ধার করে এবং হাতেনাতে আটক করে ধর্ষক শরীফ বেপারি ও মিঠুকে। তারা ঘটনার জন্য তরুণীর বাবার কাছে ক্ষমা চায়। অসহায় বাবা লোক-লজ্জার ভয়ে তাদেরকে ছেড়ে দিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন।
পরের দিন রোববার তরুণীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘটনা শুনে ভুক্তভোগী তরুণীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু দরিদ্র বাবা টাকার অভাবে মেয়েকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি। পরে আত্মীয়-স্বজনদের পরামর্শে দু’দিন পর মঙ্গলবার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেনকে জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষণিক বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) অবগত করেন। ওসি ইউএনও'র কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনা শোনার পর তরুণীর বাবাকে মামলার পরামর্শ দেন। এ সময় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা থানায় গিয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো দু’জনসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, মামলার পর মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



