স্থানীয় ভূমিদস্যু শাহিন-বারীক গংদের জুলুম-নির্যাতন, অবৈধ দখলদারিত্ব, অপহরণ; মিথ্যা ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় হয়রানির প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ শান্তিপ্রিয় ও বিবেকবান মানুষের সহায়তা কামনা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক দাবি করে গতকাল জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে সদর উপজেলার পূর্ব সুন্দরপুর গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবার। লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষে শামছুজ্জামান বলেন, তারা জয়পুরহাট সদর থানার পূর্ব সুন্দরপুর গ্রামের মরহুম বস্কর আলী ফকিরের কন্যা তৈমন নেসার ওয়ারিস (নাতি-নাতনী)। মরহুমার নজির হোসেন ও নূরুল হুদা নামে দুই ছেলে ছিলেন (উভয়ই মরহুম)। নানা ও মাতার মৃত্যুর পর দুই ভাই তাদের নামে ওয়ারিস হিসাবে হাতিগাড়া মৌজার খতিয়ান নং-৪, পূর্ব সুন্দরপুর মৌজার খতিয়ান নং-৩৩ এবং জোরা মৌজায় খতিয়ান নং-২৭ এমআরআর রেকর্ড করে। কিন্তু ভূমিদস্যুরা তাদেরকে জমির দখল দেয়নি। ১৯৯০ সালে দখলদাররা ইচ্ছাকৃতভাবেই শুধু পূর্ব সুন্দরপুর মৌজায় আরএস ৪৭৬ নং খতিয়ান প্রস্তুত করে দখল ছেড়ে দেয়। কিন্তু হাতীগাড়া ও জোরা মৌজায় এমআরআর পর্চায় নাম থাকার পরও জরিপ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগসাজশ করে দুই ভাইকে জমি থেকে বঞ্চিত করা হয়। পরে পূর্ব সুন্দরপুর মৌজার জমি বেদখল দেয়ার জন্য জরিপ বিভাগে ৩০ ধারায় অভিযোগ দাখিল করে। তারা যথারীতি অভিযোগের জবাবও দেন এবং তারা নিশ্চত ছিলেন যে, জরিপ বিভাগ তাদের জবাবে সন্তুষ্ট হয়েছে। কিন্তু ফাইনাল পর্চায় দেখা যায় যে, এসব ভূমিদস্যুরা জরিপ কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে আরএস-৪৭৬ খতিয়ানে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তারা নিরুপায় হয়েই তড়িঘড়ি করে হাতীগাড়া মৌজায় রেকর্ড সংশোধনের জন্য ১২৪৫/২১ নং ল্যান্ডসার্ভে (দেওয়ানি মামলা) রুজু করেন। আর এই মামলা দায়েরের পর এসব ভূমিদস্যুরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে নানাবিধ হুমকি দিতে থাকলে জানমালের নিরাপত্তার চেয়ে ২/২/২২ তারিখে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তারা গত ১৪/৭/২২ তারিখে তাকে অপহরণ করে ব্যাপক মারধর করে গুরুতর জখম করে এবং স্বজনদেরও নির্দয়ভাবে পেটানো হয়। এতদসংক্রান্ত একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ভিকটিমকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। আর এ সুযোগেই বিবাদিরা উল্টো ভিকটিমসহ তার স্বজনদের বিরুদ্ধে ৪৪১ তাং : ১৪/৭/২০২২ নং এফআইআর করে। ভিকটিম পক্ষ অহপহরণ ও মারধরের ঘটনায় থানায় এজাহার দিলে এক দিন পর ৪৪৫ তাং : ১৫/৭/২০২২ নং এফআইআর গ্রহণ করা হলেও এজাহারে অপহরণের ধারা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে যায়। এর আগেই পূর্ব সুন্দরপুর ও জোরা মৌজার ভুল রেকর্ড সংশোধনের জন্য বিবাদিদের বিরুদ্ধে আরো একটি ১৬৬/২২ নং দেওয়ানি মামলা রুজু করা হয়।
এতে আরো জানানো হয়, বিগত ২/৮/২২ তারিখে ১৯৯০ পূর্ব সুন্দরপুর মৌজার আরএস-৪৭৬ নং খতিয়ান ভুক্ত জমি ভিকটিম পক্ষ রোপণ করতে গেলে এসব ভূমিদস্যুরা সম্পূর্ণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদের দখলভুক্ত সম্পত্তি জবর দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবির মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে জয়পুরহাট সদর থানার জিআর-৪৯৩/২০২২ (জয়ঃ) নং এজাহার দাখিল করে এবং আমার ভাতিজা গোলাম হাফিজ (এলএলবি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী) ও শাকিল (ইংরেজিতে অনার্স শিক্ষার্থী) এর হাত থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কল্পকাহিনী সাজানো হয়। ঘটনাটি পুরোপুরি মিথ্যা উল্লেখ করে এ বিষয়ে গ্রামবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জয়পুরহাট পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। (পত্র গ্রহণ স্মারক-৪৪০৩ তাং : ৯/৮/২২) মূলত, এসব ভূমিদস্যুদের সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এজাহারকারী দাবি করেছে, ‘আমি পৈতৃক সূত্রে জয়পুরহাট থানাধীন পূর্ব সুন্দরপুর মৌজার খতিয়ান নং-৪৭৬, দাগ নং-১৪৬৩ ও ১৪৬২ আরএস-৪৭৬, রকম-ধানী, ৬২ শতক জমি প্রাপ্ত হইয়া ভোগ দখল করিয়া আসিতেছি’। প্রকৃত পক্ষে ওই খতিয়ানে বাদির দাদার নামে জমি রেকর্ড হয়েছে (ভুলবশত, ১৬৬/২২ নং দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন) ৩৬ শতাংশ। বাদির দাদার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। সে হিসাবে বাদির বাবা ওই জমির ১৪.৪ শতাংশ জমির মালিক। তিনিও মারা গেছেন। তার মা আছেন এবং তারা দুই ভাই ও দুই বোন। সে হিসাবে এজাহারকারী ওই জমির মালিক ৪.২ শতাংশ। তাহলে সে কিভাবে ৬২ শতাংশ জমির মালিক হলো? তার সহোদর ভাই মোসাদ্দেক হোসেন দিলিপ এ পর্যন্ত এই জমির মালিকানা দাবি করেননি। ভুলবশত ওই পর্চায় আরো অনেকেরই নাম যুক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই ভাই সাইফুল বারী ও জিয়াউল হকের নামে সর্বোচ্চ ৪১ শতক জমি রেকর্ড হয়েছে। তারা এই জমি নিজেদের বলে দাবি করেন না।
অভিযোগে বলা হয়, এসব ভূমিদস্যু পাঁচবিবি উপজেলার কামালপুর মৌজার একটি তামাদি দলিলের অপব্যবহার করে দীর্ঘ দিন থেকে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা ও অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। তারা এই দলিলের সম্পত্তি মরহুম বস্কর আলী ফকিরের বলে দাবি করলেও তাদের সে দাবি ১৯ (১) মামলায় ৩১/১০/১৯৬০ এক আদেশে উল্লিখিত দলিল ‘বেনামী’ প্রমাণিত এবং সে জমি নজির হোসেন ও নূরুল হুদার বলে আদেশ দেয়া হয়েছে। তারা সে আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যায়নি। এসব ভূমিদস্যু পূর্ব সুন্দরপুর মৌজার আরএস খতিয়ান নং ৪৪৭ হালদাগ নং ১১৮৩তে ৬ শতাংশ জমি আমাদের নামে রেকর্ড থাকলেও তারা এখনো সে জমি জবর দখল করে যাচ্ছে। তারা শুধু তাদের নয়, অনেক লোকের জমিই পেশিশক্তির জোরে এবং ভুয়া রেকর্ডের মাধ্যমে জবর দখল করছে।
পরিশেষে বলা হয়, ‘ সাংবাদিক সমাজ জাতির জাগ্রত বিবেক। আমি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি, আপনারা সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধির কাছে প্রকৃত ঘটনা জানবেন। গত ২/৮/২২ তারিখের যে ঘটনার কথা উল্লেখ করে যে, জিআর- ৪৯৩/২০২২ নং এফআইআর করা হয়েছে তার সত্যাসত্য যাচাই করে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের বিভাগের উপস্থাপন করুন। যাতে মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে পারে। আমরাও চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাই’।



