নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার চরাঞ্চল আকবর নগরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মাঝে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে সামেদ আলী বাহিনী ও শওকত আলী চেয়ারম্যান সমর্থিত জাকির বাহিনীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে।
শওকত আলী ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সামেদ আলী বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ সকাল ৯টার দিকে সেখানে গেলে তাদের উপর ককটেল বিস্ফোরণসহ ইট, টেটা ছুড়ে মারে জাকির বাহিনী। এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ শেখ রিজাউল হক দিপু জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে সামেদ আলী বাহিনীর সাথে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলীর সমর্থিত জাকির গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উভয় গ্রুপকে ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দিলে সামেদ আলী বাহিনী পিছু হঁটে।
তবে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার ভিতর থেকে চেয়ারম্যান সমর্থিত জাকির বাহিনী পুলিশের উপর ককটেল ছুড়ে মেরে বিস্ফোরণ ঘটায়। একইসাথে টেটা ও ইটের সুরকি ছুড়ে মারে পুলিশ সদস্যদের উপর।
এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। তবে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে তিনি জানান। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জাকির বাহিনী ইটভাটার ভিতরে থেকে আক্রমণ করছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার শওকত চেয়ারম্যানের বাড়িতে সামেদ আলী বাহিনী হামলা চালিয়ে নারীসহ অন্তত ছয়জনকে মারধর করে আহত করে। এ সময় চেয়ারম্যানের ভাতিজার বাড়ি ভাংচুর করা হয়।
জানা যায়, ফতুল্লার একটি ভয়ঙ্কর এলাকার নাম আকবর নগর। এ এলাকায় ইটখলায় চাঁদাবাজী ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে সামেদ আলী ও রহিম হাজী নামে দুটি গ্রুপের মধ্যে প্রায়সময় সংঘর্ষ হয়। এতে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
এদের মধ্যে সামেদ আলী গ্রুপকে সরাসরিই স্থানীয় বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী শেল্টার দিতেন। তার শেল্টারের কারণে আকবর নগরসহ বক্তাবলী ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা, ইটখলায় চাঁদাবাজীসহ নানা ধরনের অপরাধে বেপরোয়া হয়ে উঠে সামেদ আলী বাহিনী।
এলাকাবাসী জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শওকত চেয়ারম্যানের বাড়িতে সামেদ আলী বাহিনীর লোকজন হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। এ সময় প্রতিবাদ করায় শওকত চেয়ারম্যানের ভাতিজার স্ত্রীসহ অন্তত ছয়জনকে মারধর করেছে।
সে সময় সামেদ আলী জানান, ‘কিছুই হয়নি। একটু বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। চেয়ারম্যানের ভাতিজা একটু বাড়িয়ে বলেছে। সেই চায় এলাকার লোকজনের সাথে ঝগড়াঝাটি করতে। আমার লোকজনদের আমি শান্ত থাকতে বলেছি।’
অপরদিকে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, ‘বক্তাবলী বাজারের এক দোকানদারের কাছ থেকে বেশ কয়দিন আগে এক হাজার টাকা ধার নিয়ে সামেদ আলীর লোকজন আরেক মাদক বিক্রেতাকে দিয়েছে। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আমার আত্মীয়-স্বজনদের সাথে তর্ক হয়। এ নিয়ে কয়েক শ’ লোক নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে আমার বাড়িতে হামলা চালায় সামেদ আলী বাহিনী। এ সময় তারা আমার ভাতিজার বাড়ি ভাংচুর করেছে। প্রতিবাদ করায় আমার ভাবি, ভাতিজা ও ভাতিজার স্ত্রীসহ ৬/৭ জনকে মারধর করেছে।’



