বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য প্রাণ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের শাওন। সে যুবদলের কর্মী। তার চেয়ে বড় পরিচয় সে এ দেশের নাগরিক। তাকে পুলিশ এভাবে গুলি করে মারতে পারে না। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা নবীনগর এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত রাজ আহমেদ শাওনের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার দুপরে বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিতে পুলিশ বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় শাওন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করি না, বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাস করি না, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করি। নারায়ণগঞ্জে একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ যেভাবে গুলি চালিয়েছে একটা স্বাধীন দেশে তা চলতে পারে না এর আগে নারায়ণগঞ্জে শাওনের কবর জিয়ারত করে তার পরিবারের খোঁজখবর নেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শাওনের পরিবারকে সান্ত¡না দেন পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিহত শাওনের মা ফরিদা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন এবং সহানুভূতি প্রকাশ করেন। পরে নিহত শাওনের ভাই ফরহাদ হোসেনকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত¡না দেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ভোলায় ছাত্রদল নেতা নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিমকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। দীর্ঘ একযুগ ধরে এই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে, রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে, প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে এর প্রতিবাদে কথা বলা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতা শাওনকে এই ফ্যাসিবাদী, গণতন্ত্রহরণকারী সরকার গুলি করে হত্যা করেছে। শাওনের এই আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরো বেগবান করবে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে না পারি, আমাদের দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তাই উচ্ছৃঙ্খলভাবে নয়, শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’
পুলিশকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শত্রু নয়, আপনারা কারও হুকুম পালন করবেন না। ‘শাওন যুবদলের কর্মী নয় বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সে তো একজন মানুষ। তাকে কেন হত্যা করা হলো? প্রশ্ন রাখেন তিনি।
নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আমরা গণতন্ত্রের জন্য বারবার সংগ্রাম লড়াই করছি। আজকে এই সরকার, কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী সরকার। তারা গুলি করে, হত্যা করে, গুম করে আজকের আন্দোলনকে দমন করতে চায়। আজকে বিরোধী দলের কর্মীদের তারা রাজপথে হত্যা করছে। তারা মানুষকে অত্যাচার করছে, নির্যাতন করছে। এই আওয়ামী লীগ সরকার সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।’
বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে না দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা কখনো সন্ত্রাস ও ভায়োলেন্সে বিশ্বাস করি না। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা আমাদের শত্রু নন। আপনারা এই দেশের সন্তান। দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আপনাদেরও দায়িত্ব। শুধু আওয়ামী লীগের কথা শুনে নিরীহ জনগণের ওপর গুলি করা আপনাদের দায়িত্ব নয়। আমরা অনুরোধ করব, আপনারা অন্যায় কোনো হুকুম মানবেন না। এই হত্যা হচ্ছে, এই হত্যার জন্য একদিন না একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তাই অনুরোধ করব, অন্যায়ভাবে পাখির মতো মানুষকে গুলি করে হত্যা করবেন না।’
বিএনপি মহাসচিবের সাথে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকন, সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনিসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।