সাতক্ষীরায় হত্যার পাঁচ দিন পর রোববার শহরের কামালনগর এলাকায় বাইপাস সড়কের একটি ব্রিজের নিচের ডোবা থেকে শহরের সুলতানপুর এলাকার চা বিক্রেতা নিহত ইয়াসিন আলীর খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করেছে র‌্যাব সদস্যরা। এর আগে গত শনিবার রাতে হত্যায় অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে সদর উপজেলার আলীপর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হত্যাকারীর নাম জাকির হোসেন শেখ (৫০)। সে খুলনা এলাকার মৃত বাচ্চু শেখের ছেলে। জাকির সাতক্ষীরা শহরের গড়েরকন্দা এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করত।
র‌্যাব সূত্র জানায়, পাওনা ২০ হাজার টাকা আদায় করতে না পেরে চা বিক্রেতা ইয়াসিন আলীকে গলা কেটে হত্যা করে জাকির হোসেন। শনিবার রাতে সদর উপজেলার আলীপুর চাঁপারডাঙ্গা এলাকা থেকে জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক রোববার সকালে জাকির হোসেনকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা শহরতলীর কামালনগর এলাকার বাইপাস সড়কের একটি ব্রিজের নিচের ডোবা থেকে ইয়াসিন আলীর মাথা উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত বুধবার সকালে ইয়াসিন আলীর মাথাবিহীন খণ্ডিত দেহ বকচরা এলাকায় বাইপাস সড়কের একটি মাছের ঘের থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রোববার সকালে কামালনগর এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক লে. কর্নেল মোস্তাক আহমেদ জানান, ব্যবসার কথা বলে ইয়াসিন বন্ধু জাকিরের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নেয়। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও টাকা পরিশোধ না করায় জাকিরের সাথে গত সপ্তাহে ইয়াসিনের তুমুল ঝগড়া হয়। প্রতিশোধ নিতে ফন্দি আঁটে জাকির। মঙ্গলবার রাতে ইয়াসিনকে বাইপাস-সংলগ্ন বকচরা মোড় এলাকায় নিয়ে যান জাকির এবং গল্প করতে করতে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখমের একপর্যায়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে দেহ পাশের একটি ঘেরে আর মাথা ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি ব্রিজের নিচের ডোবায় ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।