নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। উপজেলার মদনপুর জুয়েল হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ করেছে বাদি পক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় তিন সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।

সোমবার বিকেলে বন্দরের মদনপুর আন্দিরপাড় গ্রামে এ হামলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে পুলিশের সামনেই দেশীয় অস্ত্রের মহড়া চলে স্থানীয় সূত্র এমনটি জানিয়েছে।

আহতরা হলেন- সেলিম (৪৫), আলীম (৪২), শাহিদা (৪৮), শরিফা (৪০), রিফাত (১৫), জাব্বার (৩২), আনিস (২৬), নুর আলম(৩৯) ও এশিয়ান টিভির ক্যামেরাপারসন আয়ান, বাংলা টিভির ক্যামেরাপারসন নাজমুল, সাংবাদিক আরিফ।

সূত্রে জানা গেছে, বন্দন মদনপুরে আন্দিরপাড়ে আলিম গং ও সোহেল ও খলিল মেম্বার গ্রুপের মাঝে পুর্ব শত্রুতার জেরে এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় দু‘পক্ষের অনেকে চাপাতি, রামদা, ছুরি, টেডাসহ দেশীও অস্ত্র নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মদনপুর ইউপির আন্দিরপাড় গ্রামে আনোয়ার হোসেনের ছেলে জুয়েলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে আলীমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি মামলা করে নিহতের ভাই সোহেল মেম্বার। এ মামলার আসামিরা একই গ্রামের বাসিন্দা। আসামিরা দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর তারা জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করে।

আসামিদের বাড়িতে এসেছে এ খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে বাদি পক্ষের রাসেল, পাশের চানপুর এলাকার মাঈনউদ্দিন, অপু, দিপুসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জামিনে মুক্ত আসামি আলীম, সেলিমসহ তিনটি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আসামি পক্ষের লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, টেটা ছুড়ে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

আহত আলীম জানান, ‘আমরা মিথ্যা মামলায় জেল খেটে জামিনে বের হলে সন্ত্রাসী সোহেল মেম্বারের লোকজন মাদককারবারি রাসেল, পাশের চাঁনপুর এলাকার মাঈনউদ্দিন, অপু, দিপুসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুপুরে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। আমার পরিবারের লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে হামলাকারিরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। টেটাবিদ্ধ ও রামদার আঘাতে আমি এবং আমার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৩ জন আহত হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয়।’

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরেই দু’গ্রুপ এই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নারায়নগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, বর্তমানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।