রাজবাড়ীর পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে তীব্র স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে করে দৌলতদিয়া প্রান্তের ৫ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ রয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া প্রান্তের আরো দুইটি ঘাট।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার কিছুক্ষণ পর পদ্মার তীব্র স্রোতে এই ভাঙন শুরু হয় বলে জানায় স্থানীয়রা। তারা বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পদ্মায় তীব্র ঘূর্নি স্রোতের সৃষ্টি হয়। ঝরো বাতাস ও এই স্রোতে ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ফেরিঘাটের পল্টুনের নিচ থেকে বড় বড় চাপ ধ্বসে পড়ে নদীতে।

তবে আশার কথা হলো এই নৌরুটে গত তিন মাস ধরে গাড়ির কোনো চাপ না থাকায় দৌলতদিয়া পাটুরিয়া ঘাটে কোনো যানজট সৃষ্টি হচ্ছে না। আর ১-২টি ঘাট বন্ধ থাকলেও গাড়ি পারাপারে কোনো সমস্য হবে না।

বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা শিগগিরই পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

ভাঙনের কবল থেকে ফেরিঘাট রক্ষার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএর) র‌্যাকার এসে ফেরিঘাটের পল্টুন সরিয়ে নেয়। ভাঙন আতঙ্কে ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান থেকে জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষসহ দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঘাটের ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

ফেরিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা বলেন, হঠাৎ করেই ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন পাড়েই আমার দোকান। গত কয়েক বছর ধরে শুনে আসছি ফেরিঘাট এলাকায় কাজ শুরু হবে। এই সব কথা বলে দুই বছর অতিক্রম হয়েছে। এ বছরই প্রথম ভাঙন শুরু হয়েছে। তিন বছর আগের বর্ষায় এ রকম ভাঙ্গন শুরু হয়েছিল। তখন ঘাট এক মাস বন্ধ ছিল। তবে এবার পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় গাড়ি পারের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। পদ্মায় পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীব্র স্রোতে ফেরিঘাট ঠেকানো কষ্ট হয়ে যাবে।